ইঞ্জিনিয়ার বাবুল আক্তার
২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর (শনিবার) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। আগুন বিমানবন্দরের কার্গো অংশে লাগায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কয়েক ঘণ্টা বন্ধ/বাতিল হয়। ৩৭টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী সংযুক্ত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।এখনো পুরো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপিত হয়নি; বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি ক্ষতির পূর্বানুমান দিচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য কি কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি রপ্তানি ও আমদানিতে ব্যবহৃত কার্গো অংশে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রপ্তানিকারক সমিতি বলছে, সকল ক্ষতি মিলিয়ে প্রাক্কলনভিত্তিক প্রায় এক বিলিয়ন বা তার বেশি ক্ষতির আশংকা রয়েছে। একই সাথে, সমিতি বলছে প্রায় বারোশো কোটি টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সরবরাহ চেইন ও উতপাদন প্রভাব, কার্গো এলাকায় ছিল রপ্তানির জন্য তৈরি পণ্য, রপ্তানির জন্য নমুনা, কাঁচামাল — এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে রপ্তানির সময়সূচি মুচকি পড়বে। বিশেষ করেই সবচেয়ে বড় ক্ষতি পোশাক শিল্পে হবে— কারণ বাংলাদেশের জন্য পোশাক রপ্তানি এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আমদানি হওয়া কাঁচামাল ও হালনাগাদ যন্ত্রাংশের ঘাটতি উৎপাদন ব্যাহত করবে। সুনাম, বিনিয়োগ ও বাজারে বিশ্বাস হারানোর ঝুকি,বিদেশি ক্রেতাদের বিশ্বাসে ধাক্কা লাগতে পারে,কারন একটি বড়ো রপ্তানিযোগ্য স্থানে এমন ঘটনা ঘটায়।
বাংলাদেশ নিরাপদ উৎপাদন দেশ, রুপ নিয়ে ভাব পরিবর্তন হতে পারে। পরবর্তী সময়ে হয়তো নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা বিকাশে বাধা পাড়বে। বিমানের অপারেশন ও পরযোটন প্রভাব, যদিও এটি মুলত কার্গো অংশে ঘটেছে। তবে বিমানবন্দরের অপারেশন বিরতি ও রুপান্তর অভিযান হয়েছে, যেটি যাত্রি ও মালবাহী পরিবহনই ব্যাহত করেছে। বিমানবন্দর পরিসেবাতে এমন ঘটনা হওয়া অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া সম্ভব। সামনে করনীয় ও সতর্কতা, দ্রুত ও স্বচ্ছ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা জরুরি যাতে সহায়তা ও বিমার দাবি দ্রুত পুরন হয়। দুর্ঘটনার কারন অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না হয় সে দিকে নজর দেওয়া দরকার।
নিরাপদ ব্যবস্থা,আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা,কার্গো অংশের পরিস্থিতি ইত্যাদি। রপ্তানিকারক এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরি। বিমানের পরিবর্তিত রুট ব্যবহার করা ইত্যাদি। বিমানের কার্গো ও স্টোরেজ অংশে নিরাপত্তা, তত্বাবধান বাড়ানো জরুরি। এতে ভবিষ্যতে বড়ো ধরনের আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতি রোধ করা যাবে।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.