প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৩:০৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তিতাসের আসমানিয়া গোমতী নদীতে ড্রেজারের তা’ণ্ডব

এম এ খান
শব্দ ও ক'ম্পনে নিদ্রা'হীন জনজীবন, চাঁ'দাবা'জির গুরুতর অভি'যোগ ওঠেছে।যে যত প্রভাবশালী নেতা তার ভা'গ তত বেশি।কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের আসমানিয়া বাজার সংলগ্ন গোমতী নদীতে চলমান ড্রেজার কার্যক্রমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। দিনের পর দিন ২৪ ঘণ্টা ড্রেজারের বি'কট শব্দ ও ভয়াবহ কম্পনে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।এলাকার গৃহিণী ও বৃদ্ধা নারীরা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ভিডিও বক্তব্যে জানান, ড্রেজারের যন্ত্র'ণাদা'য়ক শব্দে দিন-রাতের কোনো পার্থক্য নেই। রাতে ঘুমানো তো দূরের কথা, ভয়ে ঘরের ভেতর বসে থাকাও দায় হয়ে পড়েছে। শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে, পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তারা আশ'ঙ্কা প্রকাশ করেন, এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তাদের অভিযোগ, রাতে একসঙ্গে তিন থেকে চারটি ড্রেজার চালু থাকলে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ঘরের ভেতরে বসে মনে হয়, যেকোনো সময় বসতঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে। বর্ষা মৌসুমে এমনিতেই নদীভাঙনে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে, তার ওপর ড্রেজারের তীব্র কম্পনে নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।গোমতীর উত্তর পাড়ের বাসিন্দা মো. শাহ আলম ক্ষো'ভ প্রকাশ করে বলেন,
“রা'তের যে কোনো সময় এসে দেখবেন, আমাদের সবাই জেগে আছি।
প্রায় তিন মাস ধরে এক রাতও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি।
কার কাছে অভিযোগ করব? প্রতিবাদ করতে গেলে এলাকা ছাড়াতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজার চালানোর সুযোগ দিতে একটি সং'ঘব'দ্ধ সি'ন্ডিকে'ট প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা চাঁ'দা আদায় করছে। ওই সিন্ডিকেটে এলাকার বিএ'নপির অনেক নেতাকর্মী,
জন'প্রতিনিধি,শি'ক্ষক ও ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আসমানিয়া বাজার এলাকায় নতুন সেতু নির্মাণকাজ চলায় নদীতে বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে নদীর এক পাশ থেকে অন্য পাশে বোড থেকে বালু লোড ও আনলোড করতেও প্রতি ফুটে নির্দিষ্ট হারে চাঁ'দা দিতে হচ্ছে। অভি'যোগ রয়েছে, এখানে যে যত প্রভা'বশালী, তার ভা'গ তত বেশি।
ড্রেজার চলাচলের কারণে আসমানিয়া বাজারের একটি অংশে ইতোমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন,ড্রেজার আমার নামেই থাকলেও বাস্তবে আমি নামমাত্র মালিক। সব সিদ্ধা'ন্ত নেয় স্থানীয় বিএনপির নেতারা। আমাদের কথা শোনার কেউ নেই।
ড্রেজার ব্যবসায়ী খোয়াজ পূর্বে একাধিকবার সকলের নাম প্রকাশ করে অভিযোগ করলেও বর্তমানে তিনি রহস্যজনক কারনে নীরব।
অপর একজন অভিযোগ করে বলেন, তার কাছ থেকে টাকা জমা রাখা হলেও কোনো হিসাব-নিকাশ বা ব্যয়ের বিষয়ে তাকে জানানো হয়না।এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নিরবতা ও প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে এই ড্রেজার তাণ্ডব ও চাঁ'দাবা'জি অব্যাহত রয়েছে। তারা অবিলম্বে ড্রেজার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, শব্দদূষণ বন্ধ এবং চাঁ'দাবা'জির সঙ্গে জ'ড়িত'দের বিরু'দ্ধে ক'ঠোর আই'নানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দা'বি জানিয়েছেন।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.