প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৮:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে খেলার মাঠ নিয়ে হামলায় যুবকের মৃত্যু

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলায় খেলার মাঠ নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের বশির ভূঁইয়ার ছেলে কাজল (২০)। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকে নয়,পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।কাজলের বাড়িতে ঢুকতেই কান্নার শব্দে বুক ভারী হয়ে আসে। মা ছেলের নাম ধরে ডাকছেন,বোন ও দাদি কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনরা কেউই কাজলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। উঠানে, ঘরে, আশপাশের বাড়িগুলোতেও চলছে অবিরাম আহাজারি। প্রতিবেশীরা নীরবে দাঁড়িয়ে শুধু শোক প্রকাশ করছেন, কেউ কাউকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গতবছরের ২৭ নভেম্বর বিকেলে দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর চৌমুহনী এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠ প্রস্তুতকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। অভিযোগে নাম উল্লেখ করা হয়েছে একই এলাকার মান্নান, হান্নান, মনির হোসেন, রবিউলসহ ১০ জনকে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনকে। তারা দা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করে কাজলের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সিট না থাকায় পরে ঢাকায় একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলে। শেষ পর্যন্ত ৩১ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাজলের মৃত্যু হয়।
পুলিশি ময়নাতদন্তের পর আজ ২ জানুয়ারি জুমার নামাজের পর কাজলের নিজ গ্রামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার মাঠে শুধু কান্না আর ক্ষোভ। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। জানাজা শেষে এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একটি খেলার মাঠ নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত একটি তরুণ প্রাণ কেড়ে নিল। কাজলের শূন্যতা আর স্বজনদের কান্না এখন দাউদকান্দির প্রতিটি অলিতে–গলিতে। শোক আর ক্ষোভের মাঝেও মানুষের একটাই দাবি-এই মৃত্যুর ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত হোক।দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম যায়যায়দিনকে বলেন, “ভিকটিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার কারণে মামলা বর্তমানে হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। আমরা মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে প্রমাণ ও তথ্য সংগ্রহ করছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তৎপরতা অব্যাহত রাখছি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.