প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ৮:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
নওগাঁর ঐতিহাসিক প্রত্নতত্ত্ব আলতাদিঘী
মোঃ রুহেল আহম্মেদ, নিজস্ব প্রতিনিধি
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আলতাদিঘি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার একটি কিংবদন্তী। সুবিস্তৃত দিঘির উত্তর পাড়ে তারকাঁটায় ঘেরা ভারতের সীমান্ত। আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত। এই জাতীয় উদ্যানটি আলতাদিঘি নামের একটি দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সুবিশাল বনভূমি। এই বনভূমির ঠিক মাঝখানেই রয়েছে প্রায় ৪৩ একর আয়তনের বিশাল দিঘি। যার নাম আলতাদিঘি।
জনশ্রুতি আছে বরেন্দ্র অঞ্চলে এক সময় প্রবল খরার কারণে মাঠ-ঘাট সব পুড়ছিল চরম পানীয় জল সংকটে। প্রজাদের দাবীর কারণে স্থানীয় জগদ্দল বিহারের (১০৭৭-১১২০ খ্রিঃ) রাজা রামপাল ও সদর পালের রাজ্য শাসনের সময় রাজমাতার ইচ্ছা অনুযায়ী বিশাল দিঘি খননের প্রস্তাব দেন। আলতাদিঘি নাম কিভাবে হলো তা নিয়ে সঠিক ইতিহাস না থাকলেও লোকমুখে জানা যায় রাজমাতার শর্ত ছিল, তিনি পায়ে হেঁটে যতদূর অবধি যেতে পারবেন সেই পর্যন্ত দিঘিটি খনন করতে হবে। রাজমাতার শর্ত পূরণের বিষয়ে মন্ত্রী ও সদস্যদের সঙ্গে রাজা পরামর্শ করে আলতা নিয়ে আসেন। অতঃপর, একদিন ঘটা করে সবাই রাজমাতাকে অনুসরণ করেন এবং রাজমাতা হাঁটতে শুরু করেন।
কিন্তু রাজমাতার হাঁটা আর শেষ হয় না, তিনি হাঁটতেই থাকেন। তারপর, পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে মন্ত্রী দিঘির শেষ প্রান্তে রাজমাতার পায়ে আলতা ছিটিয়ে দিয়ে তাকে থামিয়ে দেন। বলেন- মা তোমার পা ফেটে রক্ত বেরিয়েছে। তুমি আর হাঁটতে পারবে না। যেই স্থানে গিয়ে রাজমাতা হাঁটা বন্ধ করেছিলেন, শুরুর স্থান থেকে সেই অবধি পর্যন্ত রাজা বিশ্বনাথ দিঘি খনন করেছিলেন। সেই থেকেই এই দিঘিটি আলতা দিঘি নামে হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানে মেছোবাঘ, গন্ধগোকুল, শিয়াল, অজগর ও বানর পাওয়া যায়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, পোকামাকড়সহ নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য রয়েছে। বিশেষত শালগাছকে আলিঙ্গণ করে গড়ে ওঠা উঁই পোকার ঢিবিগুলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
দুইদিন আগে রাতে জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ধামইরহাট হয়ে ভারত সীমান্তবর্তী আলতাদিঘী এলাকায় কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করি। এই অংশ হিসেবে রাতের বেলা আলতাদীঘি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিদর্শন করি। সেদিন ছিল পূর্ণিমা, চাঁদের জোছনায় আলতা দিঘীটি বন বিভাগের ওয়াচ টাওয়ার থেকে অপরূপ সৌন্দর্যের আধার হিসেবে ধরা দেয়। সময় এবং সুযোগ পেলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন নওগাঁ জেলার ঐতিহাসিক প্রত্নতত্ত্ব আলতাদিঘী।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.