এসকে সুলতান সাভার
ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলে নামজারি ও সরকারি সম্পত্তির লীজ নবায়নের নামে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর ইভান গাজীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করলে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রাখা হয়। নামজারি কিংবা ভিপি সম্পত্তির লীজ নবায়নের আবেদন করলেই শুরু হয় ভোগান্তি। কখনো অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া, কখনো দিনের পর দিন ঘুরানো- সবশেষে ম্যানেজ না করলে কাজ হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
আমিনবাজার ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে সরাসরি বলা হয়—নামজারি হবে না বা লীজ নবায়ন সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হলেও সেখানে গিয়েও সমাধান মেলে না। ফলে ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়ছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘুষ লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে ইভান গাজী নিজের শ্যালক মেহেদীকে ব্যবহার করেন। বিকাশের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করা হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগকারীরা আরোও জানান , সংশ্লিষ্ট বিকাশ নম্বর ও মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন যাচাই করলে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ইভান গাজীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত থাকাকালে একই ধরনের অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যতার কারণে বারবার অভিযোগের পরও তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি সময়ে সাভার ও আশুলিয়ার ভূমি অফিসে ইভান গাজী ও মাহমুদ গাজীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এর আগেও একাধিক সংবাদ ও ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও ইউটিউবভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নামজারি, খতিয়ান ও অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত সেবায় ঘুষ গ্রহণ, অবৈধভাবে ক্ষমতা ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভূমি অফিসকে ঘুষের কারখানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে ইউটিউবভিত্তিক একাধিক অনুসন্ধানী ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়—পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী কর্মকর্তা হয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে খুলে বসানো হয়েছে ঘুষের চেম্বার। আমিনবাজার ইউনিয়নের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি সেবা পেতে প্রকাশ্যেই ঘুষ দিতে হচ্ছে। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সাধারণ মানুষ রক্ষা পাবে না।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল অফিসে গিয়ে অফিস সহকারী ইভান গাজীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আপনি আগে আমার কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আসেন। আপনি এখানে মব করতে এসেছেন। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলবো না। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.