প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ১২:০১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
নবীনগরে ধান থেকে সবজি লাভজনক কৃষিতে নতুন দিগন্ত

সত্য প্রকাশ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের নবীনগর–মুরাদনগর সড়কসংলগ্ন বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিগুলো একসময় কেবল ধান উৎপাদনের জন্যই পরিচিত ছিল। সময়ের পরিবর্তন ও লাভজনক কৃষির সন্ধানে সেই জমিগুলো এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সবুজ সবজি ক্ষেতে। এই পরিবর্তনের অন্যতম পথিকৃৎ জিনদপুর ইউনিয়নের তরুণ কৃষক অনিকুর রহমান।
গত দুই বছর ধরে অনিকুর রহমান প্রচলিত ধান চাষের বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক ও উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনে মনোযোগ দেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ এবং নিজের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তিনি ধীরে ধীরে ধানের জমিগুলোকে সবজি চাষের উপযোগী করে তোলেন। সরেজমিনে দেখা যায়, তিনি বর্তমানে প্রায় ৫ বিঘা জমিতে শসা, বেগুন, মরিচ ও টমেটো আবাদ করছেন।
চলতি মৌসুমে টমেটোর ফলন ও বাজারদর দুটিই সন্তোষজনক। জমি থেকেই টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দরে, যা গত বছরের তুলনায় বেশ ভালো। শীতের প্রকোপ কম থাকায় রোগবালাইও তুলনামূলক কম। অল্পদিনের মধ্যেই মরিচ উত্তোলন শুরু হবে, বেগুনের জমিতে চলছে নিয়মিত পরিচর্যা। পাশাপাশি আসন্ন রমজানকে লক্ষ্য করে নতুন করে শসার আবাদ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
লাভজনক কৃষিতে জমি নির্বাচনের গুরুত্ব সম্পর্কে অনিকুর রহমানের অভিজ্ঞতা এখন অনেক কৃষকের জন্য দৃষ্টান্ত। তুলনামূলক উঁচু জমি, উন্নত সেচ সুবিধা ও পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থার কারণে তার সবজি ক্ষেতে ফলন হচ্ছে আশানুরূপ। এসব সবজি চাষ করে তিনি বছরে গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করছেন, যা তার পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করছে।
এ বিষয়ে তরুণ কৃষক অনিকুর রহমান বলেন, "আগে এখানে শুধু ধান চাষ হতো, কিন্তু খরচের তুলনায় লাভ খুব একটা থাকত না। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে ধীরে ধীরে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকি। শুরুতে কিছুটা ভয় ছিল, তবে এখন বুঝতে পারছি—সঠিক জমি নির্বাচন, সময়মতো সেচ ও পরিচর্যা করলে সবজি চাষ অনেক বেশি লাভজনক। ভবিষ্যতে আবাদ বাড়ানোর পাশাপাশি অন্য তরুণদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে চাই। ধীরে ধীরে আরও জমি লিজ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
জিনদপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরনবী জানান, ইউনিয়নের তরুণদের বাণিজ্যিক কৃষিতে উৎসাহিত করতে অনিকুর রহমানের সাফল্যের উদাহরণ নিয়মিত তুলে ধরা হচ্ছে। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক ধানের পাশাপাশি সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চলতি মৌসুমে ধানের জমি ও পতিত জমিতে মিলিয়ে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে সবজি আবাদ হচ্ছে।
নবীনগর উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিনদপুর ইউনিয়নে তরুণ কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষিতে সম্পৃক্ত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট এবং কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষক প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক, মাঠ দিবস ও প্রয়োজনীয় প্রদর্শনী উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.