
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, পদ-পজিশন বা ক্ষমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
তিনি বলেন, সফল হওয়ার পর যদি আমরা নিজেদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলি, তাহলে তা সামষ্টিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-এ যশোর সাংবাদিক ফোরামের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৬ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলী।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “আমরা যখন খুব সফল বা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাই, তখন নিজেদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ে আবদ্ধ করে ফেলি। এই জায়গা থেকে সরে আসতে না পারলে সামষ্টিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত না হয়ে স্থায়ী হওয়া উচিত। কিন্তু পদ-পজিশন বিবেচনায় নিয়ে যদি সম্পর্ক তৈরি হয়, তাহলে তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”
অমিত প্রয়াত পিতা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য তরিকুল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যশোর সমিতি গঠনের সময় তার বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। “সমিতির বিভিন্ন আয়োজনে তার বাবাকে নিয়মিত প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হতো। ক্ষমতার পালাবদলের পর আবার তাকে বাদ দেওয়া হতো। ২০০১ সালে মন্ত্রী হওয়ার পর আবার আমন্ত্রণ জানানো হয়। তার বাবার মন্তব্য ছিল—দাওয়াত আসে পদ-পদবির কারণে নয়, সম্পর্কের কারণে। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
বৃহত্তর যশোরের উন্নয়নে বিদ্যমান সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “দীর্ঘ সময় পর যশোরের সামনে একটি বড় সুযোগ এসেছে। সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে আমাদের অনেক মানুষ রয়েছেন। অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, বাবু নিতাই রায় চৌধুরীসহ আমরা যারা আছি—সবার মধ্যে সমন্বয় ও সংযোগ স্থাপন করে কাজ করতে পারলে যশোরের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।

ঐক্যের অভাবের কুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, “সম্প্রতি রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে যশোর থেকে সভাপতি পদে দুজন প্রার্থী দাঁড়িয়ে দুজনই পরাজিত হয়েছেন। আমি আগেই বলেছিলাম—দুজন মিলে একজন ঠিক করুন। কিন্তু কেউ শোনেনি। একা ভালো থাকার চেষ্টা না করে সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করলে তবেই সফলতা আসবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল মুন্নী, যশোর জেলা সমিতির সভাপতি জেলা প্রশাসক আজারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক হারুন জামিল, রশীদ চ্যাটার্জি, তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, মুরসালীন নোমানী, যশোর জেলা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খায়রুল কবীর চঞ্চল, এনসিপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েলসহ ঢাকায় কর্মরত যশোরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা।
যশোর সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক মাহমুদ সোহেল বলেন, যশোরের যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা পাশে থাকব। যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে যশোরকে বাংলাদেশের একটি আদর্শ ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকরা ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি ফোরাম মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, যশোরের মানুষের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় যশোর সাংবাদিক ফোরাম বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.