স্টাফ রিপোর্টার
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, কথিত “সেটেলমেন্ট বাণিজ্য” এবং সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওমর ফারুক মুন্না নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি নিজেকে যুবদলের প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওমর ফারুক মুন্না তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে “আব্বাস ভাই” ও তার স্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করে দলে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন স্থানে দলীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন।
ফাইম এন্টারপ্রাইজ অফিসকে ঘিরে অভিযোগ
সূত্র জানায়, “ফাইম এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি অফিসকে কেন্দ্র করে তার কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনকে—বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহভাজনদের—ওই অফিসে নিয়ে এসে “সেটেলমেন্ট” নামে অর্থ লেনদেন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কথিত মীমাংসা বা সমঝোতার আড়ালে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ওমর ফারুক মুন্না ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় দোকানপাট এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা আদায় করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে একটি সক্রিয় গুন্ডাবাহিনী রয়েছে, যারা ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেককে চুপ থাকতে বাধ্য করছে।
“আঙুল ফুলে কলাগাছ” হওয়ার পেছনে প্রশ্ন
স্থানীয়দের প্রশ্ন, অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে ওমর ফারুক মুন্নার আর্থিক অবস্থার এত বড় পরিবর্তন হলো? অভিযোগকারীদের মতে, দলীয় পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ অর্থ লেনদেন, সেটেলমেন্ট বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে তিনি দ্রুত সম্পদের মালিক হয়েছেন।
৫ আগস্টের আগে ও পরে অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন
এলাকায় এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে ওমর ফারুক মুন্না কোথায় ছিলেন, কোন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, এবং কীভাবে হঠাৎ করে যুবদলের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেলেন?
স্থানীয়দের দাবি, তার রাজনৈতিক উত্থান এবং অতীত ভূমিকা নিয়ে একটি স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, ওমর ফারুক মুন্নার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে তার কথিত অফিস, আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার, এবং সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.