প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৯:২৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
এপ্রিলে রান্নার গ্যাসের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধি : বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন চাপের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি এপ্রিল মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির (LPG) দাম এক ধাক্কায় প্রায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এখন থেকে ১৭২৮ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। গত ২ এপ্রিল বিকেলে বিইআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন এই দর ঘোষণা করেন। মার্চের তুলনায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা। নতুন দর (১২ কেজি): ১৭২৮ টাকা (আগে ছিল ১৩৪১ টাকা)। অটোগ্যাস: প্রতি লিটার এখন ৭৯.৭৭ টাকা (আগে ছিল ৬১.৮৩ টাকা)। অন্যান্য আকার: ৫.৫ কেজি ৭৯২ টাকা এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪২৮ টাকা।সরকারি এলপিজি: তবে সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম পূর্বের ৮২৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেনো এই মুল্যবৃদ্ধি?বিইআরসি-র মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের দাম (সৌদি সিপি) বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতাও এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বাজার পরিস্থিতি ও জনগণের দুর্ভোগ,কাগজে-কলমে দাম ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, দেশের অনেক স্থানে খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। কুষ্টিয়া ও এর আশেপাশের স্থানীয় বাজারগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দামে গ্যাস বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ও প্রশাসনের করনিয়,বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলছেন: বিইআরসি নির্ধারিত দাম যাতে খুচরা পর্যায়ে কার্যকর হয়, সেজন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি। সম্প্রতি সরকার এলপিজি আমদানিতে ভ্যাট কাঠামো পুনর্গঠন করেছে (আমদানি পর্যায়ে ৭.৫% ভ্যাট এবং উৎপাদন পর্যায়ে প্রত্যাহার)। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এই শুল্ক সাময়িকভাবে আরও কমানোর মাধ্যমে ভোক্তাকে স্বস্তি দেওয়া যেতে পারে। সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে বাজারে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য কমে এবং সাধারণ মানুষ কম দামে গ্যাস পাওয়ার সুযোগ পায়। দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির গ্রাহকদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত গ্যাসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।বিইআরসি চেয়ারম্যান সতর্ক করে জানিয়েছেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভোক্তাদের দাবি, শুধুমাত্র সতর্কবাণীতে কাজ হবে না, প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি। সহজকথায়, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষ চায় ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জ্বালানি। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.