প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৩:২৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
বাপ-দাদার আদি পেশা আঁকড়ে ধরে কামারদের জীবন সংগ্রাম: হার মানছে না ঐতিহ্য

মোঃ বাবুল আক্তার
আধুনিক যন্ত্রপাতির দাপট আর প্লাস্টিক-অ্যালুমিনিয়ামের ভিড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প। তবুও পেটের তাগিদে নয়, বরং পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও রক্তে মিশে থাকা আদি পেশাকে ধরে রাখতে লড়াই করে যাচ্ছেন কুষ্টিয়ার অসংখ্য কামার শিল্পী। "সংসার চলুক বা না চলুক, বাপ-দাদার কাজ ছাড়া যাবে না"—এমনই এক অদম্য জেদ নিয়ে এখনো আগুনের লেলিহান শিখার সাথে যুদ্ধ করছেন তারা।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ
এক সময় ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই কামার পল্লীগুলোতে শোনা যেত হাতুড়ি আর নেহাইয়ের টুংটাং শব্দ। দা, বঁটি, কোদাল, লাঙ্গল কিংবা কুড়াল তৈরিতে তাদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু বর্তমানে প্রেক্ষাপট বদলেছে। বাজারে কারখানায় তৈরি সস্তা ও চাকচিক্যময় জিনিসের ভিড়ে হাতে তৈরি এসব যন্ত্রপাতির চাহিদা অনেকটাই কমেছে।
কামারদের মতে, কয়লা ও কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত লোহার দাম গত কয়েক বছরে আকাশচুম্বী হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক মিলছে নামমাত্র। অনেক ক্ষেত্রে সারাদিন আগুনের তাপে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।
ঐতিহ্যের টানে বেঁচে থাকা ছবির এই কারিগরকে দেখা যাচ্ছে অত্যন্ত সাধারণ এক চালাঘরের নিচে বসে লোহার বাঁকানো পাত দিয়ে প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সরঞ্জাম তৈরিতে মগ্ন। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাতুড়ি, সাঁড়াশিসহ পুরনো আমলের সব যন্ত্রপাতি। তাদের এই কাজে নেই কোনো আধুনিক প্রযুক্তি, আছে শুধু অভিজ্ঞ হাতের নিখুঁত ছোঁয়া।
অনেক যুবক এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে জড়িয়ে পড়লেও, প্রবীণ ও মধ্যবয়সী কারিগররা এখনো মায়া ছাড়তে পারেননি। তাদের মতে, এটি কেবল একটি কাজ নয়, এটি তাদের পারিবারিক পরিচয়। লোকসান হলেও বছরের পর বছর ধরে তারা এই অগ্নি-পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই লোকজ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কামারদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা জরুরি। আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যদি তাদের তৈরি সামগ্রীকে বিদেশের বাজারে বা আধুনিক শো-রুমে পৌঁছানো যায়, তবেই রক্ষা পাবে হাজার বছরের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা।
নইলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে হাপরের দম আর হাতুড়ির সেই পরিচিত শব্দ কেবল ইতিহাসের পাতায় বা ছবির ফ্রেমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.