স্টাফ রিপোর্টার, হাসমত
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পুঠিয়া ইউনিয়নের পালোপাড়া গ্রামের তাহেরের মোড় সংলগ্ন এলাকায় তিন ফসলি আবাদি জমি ও পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমি বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত রাতের আঁধারে চলে এই পুকুর খননের কার্যক্রম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পালোপাড়া গ্রামের সামাদ মাস্টারের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির, যিনি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, তার নেতৃত্বেই এই পুকুর খনন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী ও কৃষিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তাদের দাবি, একজন শিক্ষক সমাজের আদর্শ হওয়ার কথা থাকলেও তিনি উল্টো কৃষিজমি ধ্বংস ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ক্ষতির কারণ হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের সব প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জমিগুলোতে পানি জমে থাকবে এবং কোনো ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে না। এতে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিয়াকত সালমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমে এখন জানলাম। বর্তমানে পুকুর খনন চলমান রয়েছে কিনা তা যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কে বা কারা এই পুকুর খনন করছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিক ঘটনাস্থলে থেকেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে ফোন দিলে কুকুর খনন চলমান রয়েছে এমন তথ্য নিশ্চিত করার পরেও দুই ঘন্টা পর পর্যন্ত কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসন প্রায়ই এমন আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। ফলে একের পর এক কৃষিজমি পুকুরে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পুকুর খনন বন্ধ করা, পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুঠিয়ার এই ঘটনাটি শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং দেশের কৃষি ও পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকির ইঙ্গিত বহন করছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের ঘোষিত পদক্ষেপ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.