নিজস্ব প্রতিনিধি
বকেয়া টাকা পরিশোধের দাবি এবং অনিয়ম করে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় অবস্থিত ঢাকা শহরের প্রথম পেট্রোল পাম্প—কিউ জি সামদানী অ্যান্ড কোং পেট্রোল পাম্প, ভিক্টোরিয়া পার্ক—এর মালিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাগ্নে ও এক কর্মচারীকে মারধর ও অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামিল ওয়াহেদ (মুহিদ)।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেলে পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ছিল। এ সময় হিমেলের অনুসারী পরিচয় দেওয়া জবি ছাত্রদলের সাইফ ও সুমন উল্টো দিক থেকে এসে লাইনের তোয়াক্কা না করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে উপস্থিত চালকরা প্রতিবাদ করলে তারা নিজেদের ‘হিমেল ভাইয়ের লোক’ বলে পরিচয় দেন।
এ সময় পাম্পের মালিকের ভাগ্নে ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জামিল ওয়াহেদ (মুহিদ) অনিয়ম করে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আগের বকেয়া ১,৫০০ টাকা পরিশোধ করতে বলেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সুমন ফোনে মেহেদী হাসান হিমেলকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে হিমেল প্রায় ৫০-৬০ জন অনুসারী নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে জামিল ওয়াহেদ (মুহিদ)-কে জোরপূর্বক বাহাদুর শাহ পার্কের পানির ট্যাংকের নিচে নিয়ে যান। সেখানে তাকে গলা চেপে ধরে মারধর, অপমান-অপদস্থ এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। তাকে উদ্ধার করতে গেলে পাম্পের ম্যানেজার বশিরও আহত হন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী জামিল ওয়াহেদ (মুহিদ) বলেন,
“সাইফ ও সুমন লাইন ভেঙে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে বলে—‘এই এখনই বাইকের ট্যাংক লোড কর, এটা হিমেল ভাইয়ের বাইক।’ ভবিষ্যতে তাদের শনাক্ত করার জন্য আমি সাইফের সঙ্গে একটি সেলফি তুলি এবং আগের বকেয়া টাকা চাই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হিমেলকে ফোন দেয়। তিনি আরও বলেন,
“হিমেল এসে প্রথমে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও পরে আমাকে বাহাদুর শাহ পার্কের পানির ট্যাংকের নিচে নিয়ে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে। সে আমাকে হুমকি দেয় এবং ফোন থেকে ছবি মুছে ফেলতে বাধ্য করে। এরপর তার সঙ্গে থাকা লোকজন আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। নিজেকে একজন ব্যবসায়ী ও সামাজিক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“আমি একজন ব্যবসায়ী এবং একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের সদ্য সাবেক সভাপতি। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছি। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বকেয়া টাকা চাওয়াই কি আমার অপরাধ?
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাম্পের ম্যানেজার বশিরের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক কর্মচারী জানান, মারধরের সময় ঘটনাস্থলের পাশে সূত্রাপুর থানার কয়েকজন পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো কার্যকর হস্তক্ষেপ করেননি। পেট্রোল পাম্পের কর্ণধার কাজী ফিরোজ সামদানি (পাবলু) বলেন, আমরা ঢাকার পুরোনো ব্যবসায়ী পরিবার। প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, এমন কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। ছোটখাটো ঝামেলা হয়েছিল, পরে তা সমাধান করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ঘটনায় পুলিশের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করেছে। এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা ডায়েরি হয়নি।”
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.