সত্য প্রকাশ ডেস্ক
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্টান্ড ও এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে মহাসড়ক দখল করে বসেছে দোকানপাট। এতে মহাসড়কের জায়গা সংকুচিত হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে মহাসড়কের জায়গা দখল করে ভাসমান এসব ব্যবসায়ীদের কে এখানে ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন। বিনিময়ে প্রভাবশালী ওই চক্র নিয়মিত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড ও এর আশেপাশে মহাসড়কের পাশের ফুটপাত, এবং ফুট ওভার ব্রিজের নিচে মসড়কের জায়গা অবৈধ দখল ভাবে দখল করে শতা শত দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন এক শ্রেণীর ভাসমান ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অবৈধ এসব ভাসমান দোকান থেকে দোকান প্রতি প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে চাদা তুলছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন দোকানদার জানান, পল্লী বিদ্যুৎ বাজারের ইজারাদার সোহেল সরকারের লোকজন প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে ২০০ টাকা হার খাজনা আদায় করেন। কিন্তু ইজারাদারের পক্ষ থেকে খাজনা আদায়ের বিপরীতে কোন প্রকার রশিদ প্রদান করা হয় না। কোন কোন দোকানদার বলছেন,স্থানীয় সংসদ সদস্যের লোকজন তাদেরকে এখানে দোকান করার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং সংসদ সদস্যের নিজস্ব লোকজন প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেন। এখানে ব্যবসা করতে হলে দোকান প্রতি প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে তাদের দিতে হয় বলে তথ্যসূত্র নিশ্চিত করেছ।
মহাসড়কে অবৈধ দোকানে স্থাপন এবং দোকান থেকে চাঁদাবাজির বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বাজারের ইজারাদার এবং স্থানীয় যুবদল নেতা অভিযুক্ত সোহেল সরকারে মুঠো ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে ১৮ জুন থেকে একাধিকবার কল এবং মেসেজ করা হলে ১৯ জুন হোয়াটসঅ্যাপের একটি কল রিসিভ করেন এবং ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির সাংবাদিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ব্যস্ততার অজুহাতে হোয়াটসঅ্যাপ এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে ২১জুন পর্যন্ত তার মুঠোফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক একবার কল এবং মেসেজ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সওগাতুল আলম অত্র এলাকায় মহাসড়ক অবৈধ দখল করে দোকানপাট স্থাপনের সত্যতা স্বীকার করেন, তবে উক্ত দোকানগুলো থেকে কেউ চাঁদা আদায় করছেন কিনা সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিন্ত নন বলে সত্য প্রকাশকে জানান। তিনি আরোও জানান, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে আগামী ২২-২৩ তারিখে মহাসড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থায়ীভাবে মহাসড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে মহাসড়ক অবৈধভাবে দখল করে যদি কেউ পুনরায় দোকানপাট স্থাপন করে সে ক্ষেত্রে পুনরায় উচ্ছেদাভিযন পরিচালনা করা হবে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সচেতন মহল বলছেন, মহাসড়ক দখল করে এসব অবৈধ দোকান গড়ে ওঠায় পথচারীদের চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে, মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এছাড়া অবৈধ দখলদারিত্বকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ঘটে রক্ত ক্ষয়ই সংঘর্ষ। পাশাপাশি এসব দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের প্রভাব পড়েছে নিত্য পণ্যের দামে। যার প্রভাব গিয়ে সরাসরি পরছে সাধারণ ক্রেতার পকেটে।
তাই মহসড়কে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাটিতে বসবাসরত সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এবং সচেতন মহল।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.