নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও সেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত কবির মোল্লার বিরুদ্ধে প্রতারণার শিকার এক নারী ও এক গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের ৩নং ওয়ার্ডের বারেন্ডা মোল্লা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা ও বিএনপির কথিত নেতা হিসেবে পরিচিত কবির মোল্লার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এলাকার স্বল্পশিক্ষিত ও অশিক্ষিত নারীদের ফ্যামিলি কার্ড, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন।
এছাড়া তিনি নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খালিদ হোসেনের স্নেহভাজন বলে পরিচয় দিতেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় কবির মোল্লা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে শুরু করেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আরও বাড়তে থাকে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে পরিচয় দিলেও তিনি সরকারি ভাতা ও বিভিন্ন সেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়, নিবন্ধনহীন এনজিও পরিচালনা, ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ, চাঁদাবাজি এবং থানা-পুলিশের ভয় দেখিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “কবির মোল্লার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগকারী এক নারী ও এক গণমাধ্যমকর্মীকে লক্ষ্য করে তিনি ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। ওই লাইভে তিনি নারীর চরিত্র হননের চেষ্টা করেন, গণমাধ্যমকর্মীকে গালিগালাজ করেন এবং থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা করার হুমকি দেন। তিনি আরও দাবি করেন, সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি ‘হাই লেভেলে’ চলে গেছে এবং সেখান থেকেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, প্রতারণার অভিযোগে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত সমাজসেবা অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের বক্তব্য, সাংবাদিকরা জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করেন। কোনো সংবাদে কারও আপত্তি থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো বা মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.