কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রবেশপথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি কে) ক্যানালের বর্জ্য ও পচা মাটি স্তূপ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে ২৩নং পশ্চিম বাহিরচর ১২মাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর যাতায়াত সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধ ও কাদার কারণে তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে জি কে ক্যানাল সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী খাল থেকে উত্তোলিত পরিত্যক্ত মাটি ও আবর্জনা নির্দিষ্ট দূরত্বের ডাম্পিং স্টেশনে সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও, তা না করে অত্যন্ত দায়িত্বহীনভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধান ফটক ও চলাচলের রাস্তার ওপর উচুঁ করে ফেলে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষার সামান্য বৃষ্টিতেই এই বর্জ্যমিশ্রিত মাটি গলে পুরো রাস্তাটি কর্দমাক্ত নরকে পরিণত হয়েছে। কোমলমতি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই কাদা মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছে।
এছাড়া খালের তলদেশের পচা আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি এতটা পিচ্ছিল হয় যে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রায়ই আছাড় খেয়ে হাত-পা কাটছে এবং পোশাক নষ্ট করছে। এই আতঙ্কে অনেকেই এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রধান প্রবেশপথটি দ্রুত সচল এবং আবর্জনা মুক্ত না করা হলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়তে পারে। এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে তারা সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুসলিমা খাতুন বলেন, আমি একদিন ইউএনও স্যারের অফিসে কাজে গিয়েছিলাম তখন স্যারকে মৌখিক বলে এসেছি। এখন মনে করছি লিখিত একটা অভিযোগ দিয়ে দিবো।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার দেবনাথ বলেন, দীর্ঘদিন আগে ৫-৬ মাস আগের কথা যারা মাটি ফেলেছে তাদের জায়গা এটা। এটা স্কুলের জায়গা না। আমরা বিষয়টা দেখেছি অনেক মাটি আছে। স্কুলের বাজেট নাই যে সেই বাজেট দিয়ে তারা মাটি সরাবেন। আমি স্কুলকে বলেছি ইউএনও মহোদয় ও ইউনিয়ন পরিষদের কোন টাকা দিয়ে এগুলো সরানো যায় কিনা।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.