প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ১০:৪৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৫, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে ভাঙ্গনঃ হুমকির মুখে নদী রক্ষা বেড়িবাঁধ ও বসতভিটা

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুরে পদ্মা নদীতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি,সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়দের বসতভিটা। ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ৫০ মিটার দূরে।
মঙ্গলবার (১৪ই জুলাই) ফয়জুল্লাহপুর এলাকার রায়টা-মহিষকুন্ডি বেরিবাঁধের পাশে এক কিলোমিটারের বিভিন্ন জায়গায় এই ভাঙন লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে এই ভাঙ্গন তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে। পাউবো'র নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের পাশ দিয়ে রাইটা-ফয়জুল্লাহপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকার এক কিলোমিটারের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙ্গন লক্ষ্য করা গেছে। এর আগেও এই অঞ্চলে নদী ভাঙ্গনে শতশত একর ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। বর্তমানে নদীর এই অংশে ভাঙ্গন কবলিত স্থান থেকে নদী রক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ৪০-৫০ মিটার। কিছু জায়গায় আরও কম। এছাড়াও বসতবাড়ির কিছু অংশ নদীতে ধসে যাচ্ছে। তাই বসতবাড়ি গুলোও পড়ে গেছে হুমকিতে। এই কারণে ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে গভীর আতঙ্ক আর উদ্বেগ। এরই মধ্যে অনেকে হারিয়েছে বসতবাড়ি।অনেকে আবার শেষ সম্বলটুকু টিকিয়ে রাখতে নিজ উদ্যোগেই ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এক প্রকার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে পদ্মা পাড়ের মানুষ বলে অভিযোগ তাদের।
ভাঙ্গনে ভিটে হারানো ভুক্তভোগী হতদরিদ্র আফতাবুল সরদার বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে আমার বাড়ির পিছনের ভিটা টুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাড়ির সমস্ত মালামাল বের করে নিয়েছি। যেকোনো সময় বাকিটুকুও শেষ হয়ে যাবে।
ভাঙ্গন কবলিত কবিরাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা, ফরিদা পারভীন ও ময়না খাতুন কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, স্বামীর রেখে যাওয়া এই ভিটেটুকুই শেষ সম্বল। বাড়ি ভাঙার চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারিনা। এটুকু না থাকলে ছেলে-সন্তান নিয়ে মাথা গোজার ঠাঁই থাকবে না।
জুনিয়াদহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান জানান,গত ধরে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার নদী রক্ষা বাঁধের পাশে বেশ কিছু জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে শুনেছি।নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী রক্ষা বাঁধ যদি কোন ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়,তবে গোটা কুষ্টিয়া জেলা পানিপন্দি হয়ে যাবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ কবিরাজ জানান, নদী রক্ষা বাঁধের পাশে অবস্থিত প্রায় ৫০-৬০ টি বাড়ি নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে।ইতিমধ্যে আফতাবুল,টিক্কা,নাজিম, কালু মজনু, হান্নান ও খোকনের বাড়ির পিছনের আঙিনা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা ভয়াবহ হবে।
ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: আমিরুল আরাফাত জানান, ফয়জুল্লাপুরে নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে তাদের সাহায্য করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর তাগিদ জানাবো।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান কালবেলাকে বলেন, আমরা নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এই অঞ্চলটি ইতিপূর্বেও ভাঙ্গনের শিকার হয়েছিল। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি। সেটা পাশ হলে আমরা দ্রুতই কাজ শুরু করতে পারব।
সম্পাদকঃ মোঃ ইমরুল হক, প্রকাশকঃ মোঃ আরমান হোসেন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২৭/বি ১ম কলোনি, মাজার রোড় মিরপুর -১ ঢাকা ১২১৬, সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ ৩নং ওয়ার্ড কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর -১৩৪৬, সম্পাদকঃ ০১৯১০৬৩৭৩২১, প্রকাশকঃ ০১৮৭২৬০৫৩৬২, Email: sottoprokash8643@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সত্য প্রকাশ. All rights reserved.