
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার এক গৃহবধূ স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারিয়া আক্তার মারুফা বলেন, ২০২২ সালের ১৭ জুন মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী মাসুম উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
ফারিয়ার অভিযোগ, গত বছরের ৫ জুন তাঁর স্বামী মাসুম উদ্দিন, শাশুড়ি পারুল বেগম ও ননদ মারজাহান আক্তার তাঁর কাছে সাত লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে ১৩ জুন অভিযুক্তরা তাঁর বাবার বাড়িতে গিয়ে আবারও একই পরিমাণ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে আর শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হবে না এবং তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করবেন বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ফারিয়া আরও অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী ফেসবুকে একাধিক ভুয়া আইডি ব্যবহার করে তাঁর নামে অশালীন ও মানহানিকর পোস্ট ছড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর মা ও মামার বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে তাঁদের পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, এসব ঘটনার পর গত বছরের ২২ জুন নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার শুনানিকালে পারিবারিকভাবে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে আদালত তাঁর স্বামী মাসুম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
ফারিয়ার দাবি, আদালতের পরোয়ানা জারির পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ তা কার্যকর করতে পারেনি। তিনি দ্রুত পরোয়ানা কার্যকর, অপপ্রচার বন্ধ এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।