
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার জিরানী এলাকায় অবস্থিত ড্রিমল্যান্ড গেস্ট হাউজকে ঘিরে আবারও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গেস্ট হাউজটিতে অভিযান চালিয়ে কথিত অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে মালিকপক্ষ, খদ্দের ও কয়েকজন নারীকে আটক করেছিল। তবে ওই অভিযানের কিছুদিন পরই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি, অতীতেও গেস্ট হাউজটির কার্যক্রম চালু রাখতে প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। সম্প্রতি গেস্ট হাউজটি আবার চালু হওয়ায় একই ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা ঘুষের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ও আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগের অভিযানটি কতটা কার্যকর ছিল এবং অভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পুনরায় চালু হলো, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা গেস্ট হাউজটির কার্যক্রম নিয়মিত নজরদারির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ড্রিমল্যান্ড গেস্ট হাউজের অন্যতম মালিক বলে পরিচিত মনির গাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, থানা পুলিশের পূর্ববর্তী অভিযানের পরও গেস্ট হাউজটিকে ঘিরে পুনরায় একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ আরও বেড়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।