জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা, মানবতা, সাম্য ও সৌন্দর্যের বাণীকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সিরাজগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে ‘ঝংকার সাংস্কৃতিক সংসদ নাট্যগোষ্ঠী’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো মিলনায়তন।
“বজ্রকূলের গান হোক মানবতা, সত্য ও সৌন্দর্যের চিরন্তন আহ্বান”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঝংকার সাংস্কৃতিক সংসদ নাট্যগোষ্ঠীর সভাপতি আয়েশা নাসরিন এমেলী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার মাহমুদুল হাসান লালন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীত কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রতিবাদের এক অনন্য প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী ওস্তাদ হানিফ মোহাম্মদ। তিনি একের পর এক জনপ্রিয় ও কালজয়ী নজরুল সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তাঁর সুরেলা পরিবেশনায় মিলনায়তনজুড়ে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও নান্দনিক পরিবেশ। দর্শকরা করতালির মাধ্যমে শিল্পীর পরিবেশনাকে বারবার অভিবাদন জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি হীরক গুণ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার গৌর এবং বাংলাদেশ মিউজিশিয়ানস ফাউন্ডেশন, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ রানা। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে নজরুলচর্চা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝংকার সাংস্কৃতিক সংসদ নাট্যগোষ্ঠীর প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক নাট্যকর্মী বীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বীরেন। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশই একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরাও নজরুলের গান পরিবেশন করেন। কবির দেশাত্মবোধ, প্রেম, ভক্তি ও সাম্যের চেতনায় ভরপুর সংগীত পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা দীর্ঘ সময় মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন পুরো অনুষ্ঠান। পরিবেশনা শেষে উপস্থিত দর্শকরা আয়োজকদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।