
মোঃ আরমান হোসেন মোড়ল
ঢাকা বন বিভাগের আওতাধীন কালিয়াকৈর রেঞ্জের বনভূমি দখল করে অবাধে গড়ে উঠছে বসতবাড়ি। রেঞ্জের অন্যান্য এলাকার তুলনায় বনভূমি দখলের প্রতিযোগিতায় চন্দ্রা বিট সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রা বিট এলাকার নতুন-পুরোনো অনেক বসতবাড়ির সীমানার ভেতরে চলে গেছে বন বিভাগের সরকারি জমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অনেক বসতবাড়ির আঙিনার ভেতরেই রয়েছে বনের মূল্যবান গজারি গাছ। এতে একদিকে বনভূমি কমছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঝড়-বৃষ্টিতে চন্দ্রা বিট এলাকায় কয়েকটি গজারি গাছ উপড়ে ও ভেঙে পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী এসব গাছ বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ডেপুটি রেঞ্জার ইকবাল হোসেনের নির্দেশে চন্দ্রা বিটের বন প্রহরী মিনহাজ এসব গাছ বিক্রি করে দেন।
তবে গাছ বিক্রি ও বনভূমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি রেঞ্জার ইকবাল হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।
পরে কালিয়াকৈর রেঞ্জ অফিসার শহিদুল হাসান শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভূমি দখল এবং গাছ কাটার মতো ঘটনায় বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট ও সন্তোষজনক বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দাবি, বনভূমি দখল বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।