নওগাঁর ধামইরহাটে সফলতার শীর্ষে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেই ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন
মোঃ রুহেল আহম্মেদ, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
৩৯
০০ বার পড়া হয়েছে
মোঃ রুহেল আহমেদ, নিজস্ব প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দুতে ১৯৬৮ সাল থেকে আলোর দিশারী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ২৯নং ধামইরহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের মেধা বিকাশ ও গুণগত শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ধারাবাহিকভাবে অভাবনীয় কৃতিত্ব ও সাফল্য অর্জন করলেও, আধুনিক নাগরিক সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে আজও বঞ্চিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরাবরই শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলেও উপজেলার শীর্ষস্থান দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব সত্ত্বেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অদম্য চেষ্টা এবং মেধাই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাফল্যের ঝুলি সমৃদ্ধ হলেও বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র বেশ করুণ। উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যালয়টিতে আজও গড়ে ওঠেনি একটি সুসজ্জিত ও নিরাপদ আধুনিক ভবন। বহু পুরনো ভগ্নদশার অবকাঠামোর মধ্য দিয়েই প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। এছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক ওয়াশরুমের অভাবে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। বর্তমান যুগে ডিজিটাল শিক্ষা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠলেও এখানে নেই প্রয়োজনীয় মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্য ও সাফল্যের দিক থেকে ধামইরহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বহুদূর এগিয়ে গেলেও ভৌত অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এর পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বর্তমান যুগোপযোগী ও ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খাপ খাইয়ে নিতে অবিলম্বে একটি বহুতল ভবন, আধুনিক ওয়াশরুম ব্লক এবং পর্যাপ্ত মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষার্থীদের অনন্য মেধার জোরে ধামইরহাটের এই মডেল বিদ্যালয়টি বারবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে চলেছে। ধামইরহাটবাসীর আকুল আবেদন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের দিকে বিশেষ নজর দেয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে শিক্ষাবাতিঘরটি পুরো অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে আরও অসামান্য ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।