
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার মিরপুরে বসতবাড়ির পাশে অস্ত্র রেখে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে ফাঁসানোর হীন চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ।
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম শহিদের বিচক্ষণতা ও নিরপেক্ষ তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেয়েছেন আরিফুল ইসলাম নামের ওই ইউপি সদস্য।
আরিফুল ইসলাম কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলামের বাড়িতে অস্ত্র রয়েছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় মিরপুর থানা পুলিশ। অভিযানকালে আরিফ মেম্বারের বাড়ির পাশ থেকে একটি ওয়ান সুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও ২ টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। তবে অস্ত্রটি যেস্থান ও পরিস্থিতিতে রাখা ছিল তা দেখে শুরুতেই সন্দেহ হয় ওসি শহিদুল ইসলাম শহিদের। বিষয়টি সাজানো কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি তড়িঘড়ি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নিরপেক্ষ ও অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে নিবিড় তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধানে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। স্থানীয় ও রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে বাড়ির পাশে অস্ত্র রেখে ইউপি সদস্যকে ফাঁসানোর এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে চাক্ষুষ প্রমাণ মেলে। ষড়যন্ত্রের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ আরিফুল ইসলামকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে সসম্মানে মুক্তি দেয়।
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ জানান, “ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে অন্যদিকে চালিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একজন নির্দোষ মানুষকে অপরাধী বানানো। কিন্তু আমাদের নিবিড় তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে এবং ইউপি সদস্য নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দোষ মানুষকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর মতো জঘন্য অপরাধে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে পুলিশের এমন নিরপেক্ষ, তড়িৎ ও বস্তুনিষ্ঠ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। ষড়যন্ত্রকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সুশীল সমাজ।