
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা আওতাধীন ৪নং কুমারগাতা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও যৌথ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ শামছুল হক, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা বায়েজিদ আহমাদ, এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা বদরুল আলম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন দুলাল, সভাপতি, ৮নং ওয়ার্ড মুক্তাগাছা।
সম্মেলনটি পরিচালনা করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম মোল্লা।
কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত প্রধান অতিথি ও মুক্তাগাছা -৫ সংসদীয় আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন,
“ইসলামী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। আমরা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করি, তবে এই দেশকে শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণের আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন
“যদি জনগণ সুযোগ দেয় এবং আমরা সরকার গঠনের দায়িত্ব পাই, তবে ইসলামভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও জনগণের কল্যাণনির্ভর সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। উন্নয়ন হবে সার্বিক—শুধু শহরে নয়, প্রতিটি গ্রামেই উন্নয়নের আলো পৌঁছাবে।”
সম্মেলনে বক্তারা ৪নং কুমারগাতা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নের জন্য নিম্নে বর্নিত কয়েকটি প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন।
প্রতিটি গ্রামে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বই ও বৃত্তি চালু।
যুব সমাজকে কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা:
কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুযোগ সৃষ্টি।
সেচ ও বীজ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
কৃষি পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা:
ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ সরবরাহ।
মাদক, জুয়া ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
বিধবা, এতিম ও অসহায় পরিবারের জন্য নিয়মিত ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচি।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন:
রাস্তাঘাট, সেতু ও ড্রেন সংস্কার।
সোলার বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন।
স্থানীয় বাজার উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান।
ধর্মীয় ও নৈতিক পুনর্জাগরণ:
মসজিদ-মাদরাসার মানোন্নয়ন।
ইসলামভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদার।
সম্মেলন শেষে দেশের কল্যাণে, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপনী করা হয়।