
সত্য প্রকাশ ডেস্ক
বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দুদিনের ভারত সফরের আগেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ভারত–রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ এক চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়ার পার্লামেন্ট। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী একে অপরের দেশে সামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে। অর্থাৎ জরুরি সময় বা যৌথ মহড়ায় এক দেশের সেনাসদস্য অন্য দেশের ঘাঁটি, বন্দর, মেরামত সুবিধা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিতে পারবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার দিল্লি পৌঁছাবেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। সফরকে ঘিরে রাজধানীতে চলছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এবারকার শীর্ষ বৈঠকে সামরিক আধুনিকীকরণ, প্রতিরক্ষা ক্রয়, বাণিজ্য ও খনিজ তেল ইস্যুতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারতকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ধরে রাখতে আগ্রহী মস্কো।
এদিকে পুতিনের সফর শুরুর ঠিক আগে তার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, “দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় রাশিয়া কতটা এগিয়ে যাবে, তা নির্ভর করছে ভারত কতটা প্রস্তুত—তার ওপর।” কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ভারতের ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও পশ্চিমাদের চাপের মাঝেও দুই দেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় পৌঁছাচ্ছে।
সফর শেষে যৌথ বিবৃতি ও কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও পুতিন-মোদী বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।