বেতন না বাড়িয়ে দ্রব্যমূল্য কমানোই কি বাস্তব সমাধান?
বাবুল আক্তার, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় :
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১২৮
০০ বার পড়া হয়েছে
বাবুল আক্তার
দেশজুড়ে চলমান মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া দামে সাধারণ মানুষের জীবন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি নয়, বরং যদি দ্রব্যমূল্যই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তবে কেমন হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতন বাড়ানো এক ধরনের সাময়িক স্বস্তি দিলেও বাজারে তার প্রভাব পড়ে উল্টোভাবে। বাড়তি আয় বাজারে গেলে চাহিদা বাড়ে, আর সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা আবারও দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে কয়েক মাস পর আগের সমস্যাই ফিরে আসে।
অন্যদিকে, নিত্যপণ্যের দাম কমানো ও বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হলে সব শ্রেণির মানুষ একসঙ্গে উপকৃত হয়। চাল, ডাল, তেল, সবজি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক পণ্যের দাম সহনীয় হলে বেতন না বাড়লেও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটাই কমে আসে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার যদি আমদানি নির্ভরতা কমায়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং বাজারে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করে, তাহলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এতে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বেতন কাঠামো সংশোধনের চাপও কমবে।
সাধারণ মানুষও মনে করছেন, বেতন বাড়ুক বা না বাড়ুক—বাজারটা যদি ঠিক থাকে, তাহলেই বাঁচা যায়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে স্থিতিশীল বাজারই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া। সব মিলিয়ে প্রশ্নটা এখন স্পষ্ট—বেতন না বাড়িয়ে যদি দ্রব্যমূল্য কমানো যায়, সেটাই কি হবে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান? সময়ই দেবে এর উত্তর, তবে মানুষের প্রত্যাশা এখন সেদিকেই।