
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরে জেলা এনএসআইর তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক তিনটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অভিযানে নকল ফোম উৎপাদন, অনুমোদনহীনভাবে খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য ও সরঞ্জাম জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমান এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সারদাগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত এ.বি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বসুন্ধরা, গাজী, আকিজসহ ২২টি স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের নামে অবৈধভাবে ফোম উৎপাদন ও বাজারজাত করছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, বিন, পরিবেশ ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের মালিক আল আমিনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ও ৫৩ ধারায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ২২টি কোম্পানির নামে ব্যবহৃত ফোম তৈরির সিল জব্দ করা হয়।
এর আগে কাশিমপুর থানার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লোহাকৈর এলাকায় মদিনা বেকারিতে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীনভাবে বেকারি পণ্য উৎপাদন ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অভিযোগে মালিক মো. সাইদুর রহমানকে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকায় অপর একটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদন ছাড়াই ‘নাটোরের কাঁচাগোল্লা’ নামে সন্দেশ উৎপাদন এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে মালিক রফিকুল ইসলামকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় প্রায় ২৪-২৫ কার্টন সন্দেশ জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমান জানান, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।