
বাবুল আক্তার
ফাল্গুনের হালকা হাওয়া আর মিষ্টি রোদে প্রকৃতিতে এখন ঋতুরাজ বসন্তের দাপট। বসন্তের মাঝপথেই যেন গ্রীষ্মের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে দেশের আম বাগানগুলোতে। সোনালী মুকুলের ম ম গন্ধে যেমন চারপাশ মৌ মৌ করছে, তেমনি অনেক গাছে এরই মধ্যে গুটি গুটি কাঁচা আম উঁকি দিতে শুরু করেছে। একই ডালে মুকুল ও আমের সমারোহ।
এ বছর প্রকৃতিতে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণত মুকুল ঝরে গিয়ে আমের গুটি বড় হয়, কিন্তু এবার অনেক বাগানেই দেখা যাচ্ছে মুকুলের পাশাপাশি কচি কাঁচা আম। ছবির মতো সাজানো থালাগুলোতে যখন এই সতেজ আম আর মুকুল একসাথে থাকে, তখন তা বাঙালির চিরচেনা গ্রামীণ সংস্কৃতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। চাষিদের চোখে আশার আলো। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাগান মালিকরা জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে শীতের বিদায় ও হালকা রোদ মুকুলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পোকামাকড় দমন ও গুটি ঝরা রোধে এখন বাগানগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা চলছে।
যদি বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে এবার বৈশাখের শুরুতেই বাজারে কাঁচা আমের সমারোহ দেখা যাবে।চিকিৎসকদের মতে, গরমের শুরুতে কাঁচা আম শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এটি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং গরমে পানিশূন্যতা রোধ করতে সাহায্য করে। বাঙালির দুপুরের খাবারে ডাল আর কাঁচা আমের টক যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতির এই রূপ জানান দিচ্ছে, খুব শীঘ্রই বাঙালির পাতে উঠতে যাচ্ছে মধুমাসের মিষ্টি রসালো ফল।