
স্টাফ রিপোর্টার, হাসমত
সামিয়ানার অভাব, জায়গা সংকট ও প্রশাসনের অজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার সিলমাড়িয়া ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলার সবচেয়ে বড় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত। প্রতি বছরের মতো এবারও কয়েকটি গ্রামের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই ঈদগাহ মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। স্থানীয়দের দাবি, এটি পুঠিয়া উপজেলার সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতবাড়িয়া, পচামাড়িয়া, কানমাড়িয়া, মোল্লাপাড়া, যগোপাপাড়া, যশোপাড়া, কোঁড়াজোড়া, দিয়ারপাড়া সহ আশপাশের আরও অনেক গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন। এবারের জামাতে আনুমানিক ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মুসল্লির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা ঈদগাহ মাঠটিকে কানায় কানায় পূর্ণ করে তোলে।
ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি খাদেমুল ইসলাম আন্টু বলেন, “এত বড় ঈদগাহ মাঠটি সম্পূর্ণ আমাদের ঈদগাহ মাঠের নিজস্ব জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবে মেঘলা আবহাওয়ার কারণে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তারপরও মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এত সংখ্যক মুসল্লির জন্য আমাদের বর্তমান জায়গা পর্যাপ্ত নয়। আমরা ভবিষ্যতে ঈদগাহ মাঠটি আরও সম্প্রসারণ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি সামিয়ানা বা অস্থায়ী ছাউনি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে বৃষ্টি হলেও মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে এত কষ্ট হতো না।”
ঈদগাহ মাঠ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জামরুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন গ্রামের সম্মিলিত এই ঈদগাহ মাঠে প্রতি বছরই মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু জায়গা বাড়ছে না। আগামীতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। তাই আমরা ধীরে ধীরে মাঠ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে চাই, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন।
এদিকে, ঈদের দিন হালকা বৃষ্টি হওয়ায় মুসল্লিদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। নামাজ পড়তে বসে অনেকের জায়নামাজ ভিজে যায়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
কানমাড়িয়া গ্রামের আলাল উদ্দিন বলেন, “গতকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। আজ মেঘলা আকাশের মধ্যে নামাজ আদায় করতে হয়েছে। যদি উপরে সামিয়ানার ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে আমাদের এত কষ্ট করতে হতো না।”
পচামাড়িয়া গ্রামের আজাহার আলী বলেন, “হালকা বৃষ্টির কারণে জায়নামাজ ভিজে গেছে। অনেক কষ্ট করে নামাজ পড়তে হয়েছে। সামিয়ানা বা তিরপলের ব্যবস্থা থাকলে এ সমস্যায় পড়তে হতো না।
ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া স্থানীয় ব্যবসায়ী জাফর আহমেদ বলেন, “এটি যেহেতু উপজেলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত, তাই প্রশাসনের উচিত ছিল আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া। শুধু বৃষ্টি নয়, রোদের সময়ও মুসল্লিদের প্রচণ্ড গরমে কষ্ট পেতে হয়।”
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এত বড় একটি ধর্মীয় সমাবেশের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত ব্যবস্থা না থাকা দুঃখজনক। তারা দ্রুত ঈদগাহ মাঠ সম্প্রসারণ এবং স্থায়ী বা অস্থায়ী ছাউনির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিয়াকত সালমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার উপজেলায় কোথায় সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, তা আমি জানি না।
একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, একটি উপজেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন সম্পর্কে অবগত থাকা দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত এবং আগামী ঈদকে সামনে রেখে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে সামিয়ানা, পর্যাপ্ত জায়গা এবং মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে হাজারো মুসল্লি নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় কর্তব্য পালন করতে পারবেন।