
নিজস্ব প্রতিবেদক
মহম্মদপুর মাগুরার মহম্মদপুর-মাগুরা সড়কের কালুকান্দি মোড়ে ঘাতক বাসের চাপায় রাসেল শেখ (৩২) নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে মহম্মদপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগামী বাসের সাথে সরাসরি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ঘাতক বাস শনাক্ত ও দুই এতিম শিশুর বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফুজ্জামান জানান, “এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা ঘাতক বাসটিকে খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছি। এছাড়া অভিভাবকহীন হয়ে পড়া দুই শিশুর ভবিষ্যতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে মাগুরা থেকে ভ্যানে করে কাঁচামাল নিয়ে মহম্মদপুর আসার পথে কালুকান্দি মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিহতের পরিবারে কোনো প্রভাবশালী অভিভাবক না থাকায় এবং শিশুদের নানি বাড়ির কেউ বেঁচে না থাকায় ঘাতক বাস মালিক সমিতি বা সংশ্লিষ্ট কেউ এখন পর্যন্ত কোনো দায় বহন করেনি।
নিহত রাসেল শেখের তথ্যানুযায়ী তার স্থায়ী ঠিকানা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কুঞ্জ নগর (পুরো পাড়া) গ্রাম। বাবার নাম ছাবু শেখ। তবে তার মৃত্যুর পর ওই ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে পরিবারের কোনো নিকটাত্মীয়ের সন্ধান মেলেনি। বড় মেয়ে সামিয়া (০৬) এবং ছোট ছেলে সামিউল (০৪) এখন আক্ষরিক অর্থেই একা হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, সামিউলের বয়স যখন মাত্র দেড় মাস, তখনই তাদের মা মারা যান। এরপর থেকে দীর্ঘ চার বছর দুই সন্তানকে একাই আগলে রেখেছিলেন রাসেল। মাত্র তিন মাস আগে মাগুরা সদরের ধলহরা গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করে সন্তানদের নিয়ে মীরপাড়ার ভাড়া বাসায় নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু এই অকাল মৃত্যু শিশুদের ভবিষ্যৎকে ঘোর অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।