
নিজস্ব প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত এই শোধনাগারটি ১৯৬৮ সাল থেকে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রধান ভূমিকা রাখছে। তবে সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এটি একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) পরিশোধন করতে পারে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। এখান থেকে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, এলপিজি, জেট ফুয়েল এবং বিটুমিনসহ মোট ১৪ থেকে ১৬ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে পেট্রোলের কোনো ঘাটতি নেই। কারণ দেশের গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে প্রাপ্ত ‘কনডেনসেট’ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন মিলিয়ে চাহিদার প্রায় পুরোটাই দেশীয়ভাবে মেটানো সম্ভব হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংবাদ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ আসতে দেরি হওয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারি সাময়িক উৎপাদন সংকটে পড়েছে: গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর অপরিশোধিত তেলের বড় কোনো চালান না আসায় মজুত কমে এসেছে। যেখানে প্রতিদিন ৪,৫০০ টন তেল শোধনের ক্ষমতা আছে, সেখানে বর্তমানে উৎপাদন কমিয়ে ৩,২০০ – ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। শোধনাগারটি যাতে পুরোপুরি বন্ধ না হয়, সেজন্য সরকার জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি ছাড়াও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (SGFL) এবং আরও কয়েকটি বেসরকারি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট (যেমন: পেট্রোম্যাক্স, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল) দেশীয় কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে। এর ফলে পেট্রোল আমদানিতে বাংলাদেশের নির্ভরতা প্রায় শূন্যের কোঠায়। জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, শোধনাগারে কাঁচামাল সংকট থাকলেও দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল ও অকটেন মজুত আছে, তাই সাধারণ গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।