1. admin@dainiksattoprokash.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম পারিবারিক কলহের জেরে ইমামের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী ক্যাশলেস ভেড়ামারা পূবালী ব্যাংকে পিএলসির উদ্যোগে ক্যাশলেস ক্যাপিন উদ্বোধন ভেড়ামারায় ২৮ বোতল মাদক সিরাপ ও মোটরসাইকেলসহ যুবক গ্রেপ্তার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালাল ৩২ মামলার আসামি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন মদনে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা উদ্বোধন করলেন লুৎফুজ্জামান বাবর টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি অকস্মাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রীপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেলেন রাশেদ খান ঝিনাইদহে শতাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অনুদানের চেক এবং গাছের চারা বিতরণ

কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসল এখন পানির নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯০ ০০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওরপাড়ের হাজারো কৃষক। একদিকে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট, অন্যদিকে বিরূপ আবহাওয়া, বজ্রবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টি কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার অন্তত হাজার ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির পাকা ধান এখন পানির নিচে। সারা বছরের শ্রম আর ঘামে উৎপাদিত ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের দিন কাটছে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশায়।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে মোট ১৪ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বদলপুর, সদর ইউনিয়ন, জলসুখা, শিবপাশা এবং কাকাইলছেও ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরের নিম্নাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০৭ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে বদলপুর ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওড় ঘুরে দেখা গেছে, হাওরের নিম্নাঞ্চল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনেক কৃষককে দেখা গেছে কোমর সমান পানিতে নেমে ডুবন্ত ধান কাটতে। কেউ কেউ নৌকাযোগে সেই আধা-পাকা ধান কেটে শুকনো জায়গায় এনে জড়ো করছেন। খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হাওরে ঢুকছে পানি, তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান। বদলপুর ইউনিয়নের কৃষক শিবলাল দাস আক্ষেপ করে বলেন, ১৩ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে আবাদ করেছিলাম। খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকার বেশি। এখন এক মুঠো ধানও কাটতে পারিনি। মহাজনের ঋণের টাকা কীভাবে দেব আর সন্তানদের কী খাওয়াব, তা ভেবে পাচ্ছি না।

একই এলাকার হরিপদ দাস জানান, তিনি ১৭ বিঘা জমিতে আবাদ করলেও মাত্র ২ বিঘার ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি সব এখন পানির নিচে। ১৩ বিঘা আবাদ করা কৃষক গিরিন্দ্র চন্দ্র দাসেরও একই দশা। তিনি জানান, মাত্র ১ বিঘা কাটতে পেরেছেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শ্যামল কুমার দাস বলেন, বদলপুর ইউনিয়নের নোয়াবন্দ, হাফাইংগা বন্দ, পুম বন্দ, মাইজবন্দ, ট্যারা বন্দসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত এক হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে আছে। উঁচু জমিতে যে ধান আছে, সেখানেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে হাওরে ধান কাটার মেশিন (হারভেস্টার) নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, কৃষি বিভাগ মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শ্রমিক সংকটের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলায় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ধান দ্রুত কাটা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
২০২৬ @ দৈনিক সত্য প্রকাশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।