কুমিল্লা জেলা তিতাস উপজেলা ভিটিকান্দ ইউনিয়ন দাসকান্দি গ্রামে মারামারির ঘটনায় অভিযোগ তুলেছেন মোহাম্মদ আলম মিয়া।
ঘটনার সূত্রপাত জানতে সরজমিনে এসে জানতে পারলাম, মারধর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক পক্ষ মোহাম্মদ আলম মিয়া অভিযোগ করে বলেন,আমার ছেলে ইব্রাহিমকে গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আমার নিজ বাড়ি থেকে নিয়ে মোকলেসের বাড়িতে নিয়ে মারধর করে মসজিদের হুজুরের কক্ষে ফেলে রেখে চলে যায়।
খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই গিয়ে দেখি আমার ছেলে ইব্রাহিম কে মারধর করে হুজুরের কক্ষে আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। ইব্রাহিমের আশঙ্কাজনক দেখে আমরা ট্রিপল নাইনে কল দিলে তিতাস থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে সেই সম্পর্কে ইব্রাহিমের বাবা মোহাম্মদ আলম মিয়া জানান…
তিনি আরো বলেন আমার ছেলেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইয়াবা সেবন বাধ্য করে ছবি তোলে মারধরের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ভাবে এই ছবিটি গতকাল ৮ ই অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়।
আলোম মিয়া আরো জানান, দেবিদ্বার থানা আমার দুইটি ডেজার ছিল, একটি আমার ছেলের ও আর একটি আমার, আমার ছেলের দাদারে কাজ করতো মোখলেসের ছেলে ঈশান,ঈশান আমার ডেজারের ডায়নামা চুরি করার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়,ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিচার করে এবং সেই বিচারের স্বীকারোক্তি দেয় ইসলাম আমি চুরি করেছি এর একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।এই ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
মারধর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার থেকে পাঁচজনের নামে অভিযোগ তুলেছেন মোহাম্মদ আলম মিয়া,
একই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ মোখলেছ মিয়ার ছেলে ঈশান মিয়া,মোহাম্মদ হুমায়ন,মোহাম্মদ জাকির হোসেন,মোহাম্মদ মোখলেছ ও ফখরুল।এই ঘটনায় ঈশানের বাবা মোহাম্মদ মোখলেছ মিয়া কে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তিনি জানান।
আলম মিয়া বলেছেন আপনারা নাকি তাদের ঘর থেকে ইব্রাহিম কে ধরে নিয়ে মারধর করেছেন।মোকলেস মিয়া জানিয়েছেন ইব্রাহিম গাঞ্জা খেয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে হাউমাউ করে গালিগালাজ করতেছে,ইব্রাহিমের এই হাউমাউ আর গালিগালাজ শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে।
একপর্যায়ে ইব্রাহিমকে শান্ত করতে তাদের চাচা ও তার বাবা ঘটনাস্থলে আসলে তারাই আমার বাড়ির সামনে ইব্রাহিমকে মারধর করে। মোকলেস মিয়া আরো বলেন,আমার ছেলে ওইখানে ডেজারে ডায়নামা চুরি করলে ওইখানে কেন বিচার করবে আমার এলাকার লোকের ডেজার আমার এলাকার লোক এখানে এসে বিচার করবে যদি সে চুরি করে থাকে। যে ভিডিও ফুটেজ নেওয়া হয়েছে বা স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে এটা জোরপূর্বক ভাবে নেওয়া হয়েছে এবং আমার ছেলের উপর দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর ইব্রাহিম মিয়া ফোনে বলে ফেলে দেখছো আমি কিনা করতে পারি।
এই মার ধরে ইব্রাহিম আহত হয়ে যায়,তারপর এলাকাবাসী মিলে একটি মসজিদের হুজুরের কক্ষে ইব্রাহিমকে বাঁচানোর জন্য হুজুরের পক্ষে রাখা হয়।
একপর্যায়ে আলম মিয়া ও ও তাহার চাচার বলে ওঠে হে বাবা গাঞ্জা খায় মেরে ফেল আপনারা কেউ এগিয়ে আসলে তাকি মেরে আপনাদেরকে ফাসিয়ে দেবো এবং তাকে কোন হসপিটালে নিতে পারবেন না।দাস কান্দি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা গফুরের ছেলে ওহিদ মিয়া ইব্রাহিমকে হসপিটালে নেওয়ার জন্য যখন অটোতে উঠাবে, তখন ইব্রাহিমের চাচা ও বাবারা বললেন তাকে নিতে পারবেন না যদি নেন তাহলে দ্বায়ভার আপনারা নিতে হবে। এই কথা শুনে তারা ইব্রাহিমকে মসজিদের পক্ষে রেখে দেয়।
ইব্রাহিমকে বাঁচাতে হসপিটালে নেওয়ার জন্য জাকির হোসেনের অটো দিয়ে নেওয়ার সময় তাহার অটোরিসকাটি ভাঙচুর করা হয়, এমনটাই অভিযোগ করেছেন জাকির হোসেন। সে বলেছেন আগে মানুষ বাঁচাই পরে সমাধান হবে।
একপর্যায়ে ইব্রাহিমের বাবা তিতাস থানা পুলিশকে খবর দিলে, পুলিশ প্রায় দুই ঘন্টা পর এসে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে হসপিটালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত আছে ফখরুল এই ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদ মোখলেছ মিয়া জানান,
মোখলেস মিয়া বলেছেন মিয়া যে বলেছেন তাহার ঘর থেকে আমরা তাহার ছেলেকে ধরে নিয়ে
এসেছি এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ইব্রাহিম মাদক গাঞ্জা খেয়ে আমার বাড়িতে যখন হাউমাউ করে তখন তাহার চাচারা বাবা এটাকে মারধর করে। আমরা ইব্রাহিমকে কোন মারধর করিনি।
আর ফখরুলের নামে যে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন এই ঘটনার সাথে ফখরুল জড়িত ছিল ফখরুল তাহার পল্টি মুরগির ফ্রাম নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ফখরুল এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। এই ঘটনায় ফখরুল জড়িত আছে ফখরুল কে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে মৌখিকভাবে আমাদেরকে জানান আমি এই ঘটনায় ছিলাম না। আমি শুধু শুনেছি তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে।ইব্রাহিমকে মারধর করে মসজিদের হুজুরের কক্ষে রাখা হয়েছে এই ঘটনার সত্যতা জানতে ইমামকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তিনিও জানান আমি এখানে দেখেছি অনেক লোকজন ছিল, তাদের মধ্যে কি হয়েছে সম্পূর্ণ জানি না। পরে দেখেছি পুলিশ এসে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে তাকে হসপিটালে পাঠানো হয়েছে।
সরজমিনে এসে অভিযোগ ওঠা জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসা পাঠ করিলে তিনি জানেন,আমি ইব্রাহিমকে বাঁচানোর জন্য হসপিটালে নেওয়ার জন্য বলছিলাম আগে লোক বাঁচান পরে সমাধান হবে। কিন্তু তাহার বাবা চাচারা নিতে দেয়নি।পরে পুলিশকে কল দিলে পুলিশ উদ্ধার করে এবং হসপিটালে নিয়ে যায়। ইব্রাহিমকে আমার অটোতে কেন তুললাম আমার অলরেডি ভাঙচুর কলে ইব্রাহিমের বাবা।
দাসকান্দি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা গফুরের ছেলে ওহিদ মিয়াকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তিনি জানান,আমি নিরুপক্ষ কাকার পক্ষ নই দেশের পক্ষ নই।
আমি এসে শুধু দেখেছি ইব্রাহিম আহত অবস্থায় পড়ে আছে তখন আমি উদ্যোগ নিয়ে মসজিদে হুজুরের পক্ষে নিয়ে যাই। এখন ইব্রাহিমের বাবা চাচারা এসে দেয় নাই।
আশ্রয় প্রকল্পের একজনের সিএনজি দিয়ে নেওয়ার জন্য বললে ওই সিমজিওয়ালাকে আলম মিয়া এবং তার ভাই বেরাদার হুমকি-ধমকি দেয় যদি তোমার সিম যদি হয় ইব্রাহিমকে নাও তোমাকে দেখে নেব।এই বয়ে ঐ সিএনজি আর যায়নি।শহীদ মিয়া বলেন,যদি না নিতে দেয় এখানে আমার কিছু করার নেই।তারপর থেকে ২ ঘণ্টা পর খবর দিলে পুলিশ এসে ইব্রাহীমকে উদ্ধার করে হসপিটালে পাঠানো হয়। আমি মারধর সময় ছিলাম না,মারধরের পাঁচ মিনিট পর আমি এসেছিলাম। আমি এতোটুকুই জানি এখানে মারধর কে বা কারা করেছে সঠিক জানিনা।কারণ মারধরের সময় আমি ছিলাম না।