মাদারগঞ্জে সমবায় সমিতির দেড় কোটি টাকা থানার ভল্টে জমা
সংবাদ দাতার নাম
প্রকাশের সময় :
শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫
১৯৩
০০ বার পড়া হয়েছে
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
জামালপুরের মাদারগঞ্জে দুই টি বহুল আলোচিত সমবায় সমিতির দেড় কোটি টাকা উদ্ধার করে রাখা হলো থানার ভল্টে, বন্টন হলো না। শত শত আমানতকারীরা শঙ্কিত হয়েছে।জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় বহুল আলোচিত সমবায় সমিতির দেড় কোটি টাকা জমাকৃত আমানত গ্রাহকদের মাঝে বন্টন না করে থানার ভোল্টে রাখা হয়েছে। ফলে আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন না করে থানার ভল্টে রাখায় সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে ওই টাকা অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনোভাবে নষ্ট হওয়া বা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় বহুল আলোচিত সমবায় সমিতি শতদল ও আল-আকাবা সমবায় সমিতির আমানতের দেড় কোটি টাকা রাখা হয়েছে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভল্টে। আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন না করে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভল্টে রাখায় সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে ওই টাকা অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনোভাবে নষ্ট হওয়া বা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর-২৫ বুধবার দুপুরে বহুল আলোচিত শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান পৌর এলাকার বালিজুড়ী বাজারে সমিতির দেড় শতাংশ জমি এক কোটি পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এ সময় মাদারগঞ্জ উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির শাহ্, মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ ও সকল সমবায় সমিতির টাকা উদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজু চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য নেতারা ও সাধারণ আমানতকারীরা এসময়ে উপস্থিত ছিলেন।
পরে সমবায় সমিতিতে জমাকৃত টাকাগুলো মাদারগঞ্জ মডেল থানায় সদ্য কেনা একটি ভল্টে রাখা হয়েছে। ভল্টের একটি চাবি শতদলের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও আরেকটি চাবি টাকা উদ্ধার আন্দোলনের আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজু চেয়ারম্যান এর কাছে রাখা হয়েছে । এর আগেও আল-আকাবা সমবায় সমিতির ৫০ লাখ টাকা মাদারগঞ্জ মডেল থানার অন্য একটি ভল্টে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমিতির আমানতকারীরা দি ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ কে বলেন, তারা দুই বছর ধরে তাদের জমাকৃত আমানতের টাকা উদ্ধারের জন্য আন্দোলন করছেন। অবশেষে শতদলের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর আমানতের টাকা পরিশোধের জন্য জমি বিক্রি করেছেন। তারা জানান, অনেক আমানতকারী টাকা ফেরত না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এখন সমিতির পরিচালকরা টাকা দিচ্ছেন, কিন্তু সেই টাকাও আমানতকারীদের মধ্যে বিতরণ না করে থানার ভল্টে রাখা হচ্ছে। এতে অনেকের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ দি ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ কে বলেন, আরও কিছু টাকা জমা হলে আমানতকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
এ বিষয়ে সকল সমবায় সমিতির টাকা উদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজু চেয়ারম্যান দি ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ কে বলেন, ২০ কোটি টাকা জমা না হওয়া পর্যন্ত বিতরণ কাজ শুরু করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এত টাকা থানায় জমা রাখা নিরাপদ কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানায় টাকা রাখা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
এ বিষয়ে শতদল সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান দি ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ কে বলেন, তিনি টাকা জমা করে রাখা নিরাপদ মনে করেন না। জমি বিক্রি করে যখন যে পরিমাণ টাকা আসবে তা বিতরণ করাই উত্তম। তিনি আরও বলেন, এক কোটি টাকা থানায় জমা রেখেছি; কিন্তু তার কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। এ অবস্থায় টাকা খোয়া গেলে শুধু আমি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হব না। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।