
নিজস্ব প্রতিবেদক
মহান সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হয়েছে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লালন ভক্ত, বাউল, সাধুসঙ্গীরা অংশ নিলেও এবারের আয়োজন ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমধর্মী।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকার এ উৎসবকে শ্রেণিভুক্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সরকারি তহবিল থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের সব দায়িত্ব পালন করে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
উৎসবের প্রতিদিনই পরিবেশিত হয় ফকির লালন শাহের দার্শনিক বাণীভিত্তিক গান। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বাউল শিল্পী, সাধু ও গুরুদের আগমনে উৎসব প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
শেষদিনে ছিল বাউল রুমা আক্তারের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। উত্তরবঙ্গের এই বাউল শিল্পী তার সুরেলা কণ্ঠে ফকির লালনের জনপ্রিয় বাণী—
“বিনা কার্যে ধন উপার্জন কে করিতে পারে”
—গেয়ে মুগ্ধ করেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের।
ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে বাউল রুমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে গান ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। নানী ও মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি বাউল সঙ্গীত জগতে আসেন। নিজের পরিশ্রম ও নিষ্ঠায় ধীরে ধীরে স্থান করে নিয়েছেন বাউল মহলে।
রুমা আক্তার বলেন, “বাউল গান শুধু বিনোদন নয়, এটা জীবনের শিক্ষা। আমি চাই, বাউল গানকে আরও দূরে ছড়িয়ে দিতে এবং মানুষের কল্যাণে আমার জীবনকে নিবেদিত রাখতে।”
সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এবারের লালন তিরোধান উৎসবকে স্থানীয় শিল্পী ও সাধুসমাজ ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এ ঐতিহ্য আরও ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়বে।