
মোঃ আরমান হোসেন
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বসির এর বিরুদ্ধে সরকারি কৃষি বরাদ্দের বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষি যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কৃষি সহায়ক প্রকল্পের বরাদ্দ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে অসৎ উপায়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং অ-কৃষকদের মাঝে সুবিধা বণ্টনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা বরাদ্দের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, কাঁঠালিয়ায় যোগদানের পর থেকেই জাহিদুল ইসলাম বসির বিভিন্ন যোগসাজশে কৃষি খাতকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেন। কৃষি যন্ত্রপাতি বরাদ্দ এনে তা প্রকৃত কৃষকদের না দিয়ে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অযোগ্য ও অ-কৃষকদের কাছে যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষি প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর নামে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলোতেও ব্যাপক অনিয়ম ছিল। এসব অনুষ্ঠানে প্রকৃত কৃষকদের রাখা হয়নি। বরং কিছু অ-কৃষককে সামান্য খাবার ও কিছু টাকা দিয়ে উপস্থিতির স্বাক্ষর নেওয়া হতো। কাগজে ব্যাচ চললেও মাঠে কৃষকদের অংশগ্রহণ ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রশিক্ষণের বেশির ভাগ টাকা স্বাক্ষরের ভিত্তিতে আত্মসাৎ করা হতো।
একাধিক কৃষক জানান, তারা ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ কিংবা প্রণোদনার টাকা—কিছুই পাননি। বরং ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্যদের হাতে বরাদ্দ তুলে দেওয়া হয়েছে। কৃষক নঈম হাওলাদার বলেন, “আমরা মাঠে কাজ করি, কিন্তু আমাদেরকে কোনো সহায়তা দেয় না। যারা কৃষকই না, তারা বরাদ্দ পেয়ে যাচ্ছে ঘুষ দিয়ে।
স্থানীয় ইউনিয়নের কৃষকদের দাবি, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, পাম্প, সার মেশিনসহ নানা কৃষিযন্ত্র বরাদ্দ পেয়েছেন এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা কখনো জমিতেই যাননি। কেউ কেউ বরাদ্দ পাওয়া যন্ত্র আবার বিক্রিও করে দিয়েছেন। জাহিদ হোসেন মিরাজ বলেন, “আমাদের এলাকায় যারা কখনো মাঠে কাজ করেনি, তারাও সরকারি যন্ত্রপাতি পেয়েছে। পরে সেগুলো বিক্রিও করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতিমা ইসলাম–এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি খাতে এমন দুর্নীতি চলতে থাকলে প্রকৃত কৃষকরা কখনোই তাদের ন্যায্য সহায়তা পাবেন না। তারা দ্রুত তদন্ত ও দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পর্ব -২