ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ — গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে রান্নার গ্যাস বা লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) বাজারে নাটকীয় স্বল্পতা, মূল্যবৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাধারণ গৃহস্থ ও ব্যবসায়ীদের জন্য জন্মেছে নতুন ধরণের দুশ্চিন্তা। বাজারে মূল্য ওঠানামা ও অপ্রকাশিত সংকট।
সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্যাল ১৩০৬ টাকা থাকলেও অনেক অঞ্চলে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা অসংক্ষিপ্তভাবে সেটা ১,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকার বেশি পর্যন্ত বিক্রি করছেন। অনেক গ্রাহক বাধ্য হয়ে এই অতিরিক্ত দামেই নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন মাত্র কিছু হাতচেল ব্যবসায়ী ও পাইকারি বিক্রেতা আত্মসাৎ ও সিন্ডিকেটের জন্য বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, ফলে সরবরাহ কম দেখানো হচ্ছে এবং দাম উচ্চ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের অবস্থান ও সরকারী বার্তা, সরকারি কর্মকর্তারা জানান, দেশজুড়ে পর্যাপ্ত গ্যাস স্টক রয়েছে; আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ ও কিছু পরিবহন ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে অস্থায়ী চাপ দেখা দিচ্ছে, তবে বড়সড় সংকট নেই। তারা বাজার-মনিটরিং ও অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বাজারে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যক্রম বাড়ানো হবে। এনার্জি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপদেষ্টা বলেন, মূল্যে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কোনো বাস্তব কারণ ছাড়াই হয়েছে এবং খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাঁদের সুযোগসন্ধানী অবস্থানকে কাজে লাগাচ্ছেন।
ভোক্তা সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অবস্থান
ভোক্তা সংগঠন কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (CAB) দাবি করেছে, সিন্ডিকেট ও দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে গ্রাহকরা অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়েছে, এবং সরকারের কাছে তারা কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছে।
ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীরাও অভিযোগ করেছেন গ্যাস সহজে পাওয়া যাচ্ছে না; থাকলেও দামে আবেদনহীনতা থাকছে। অনেকের বাড়িতেও রান্নার জন্য গ্যাস মেলে না। অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব, অধিক দামে গ্যাস বিক্রির ফলে প্রায় ৪,৮০০ কোটি টাকা মাসিক অতিরিক্ত খরচ ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
রেস্তোরাঁ ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন গ্যাস সংকটে তাদের ব্যবসার খরচ বেড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার কৃত্রিমভাবে কম দেখিয়ে দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা প্রায় দ্বিগুণ দামে LPG বিক্রি করছেন। ভোক্তা গ্রুপ ও সাধারণ মানুষ এর ফলে অর্থনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি হওয়া ব্যক্ত করেছেন।
সরকার স্বচ্ছতা ও মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার করতে বলছে।