1. admin@dainiksattoprokash.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম পারিবারিক কলহের জেরে ইমামের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী ক্যাশলেস ভেড়ামারা পূবালী ব্যাংকে পিএলসির উদ্যোগে ক্যাশলেস ক্যাপিন উদ্বোধন ভেড়ামারায় ২৮ বোতল মাদক সিরাপ ও মোটরসাইকেলসহ যুবক গ্রেপ্তার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালাল ৩২ মামলার আসামি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন মদনে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা উদ্বোধন করলেন লুৎফুজ্জামান বাবর টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি অকস্মাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রীপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেলেন রাশেদ খান ঝিনাইদহে শতাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অনুদানের চেক এবং গাছের চারা বিতরণ

অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে চলছে কয়লা তৈরি কাঠালিয়াতে

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭৮ ০০ বার পড়া হয়েছে
কাঁঠালিয়া প্রতিনিধি
কাঠ পোড়ানো এবং অন্যান্য উৎস থেকে সৃষ্ট বায়ু দূষণ পিরিয়ডের সমস্যা, যেমন অনিয়মিত ঋতুচক্র, বন্ধ্যাত্ব, PCOS (পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম) এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণ হতে পারে, কারণ বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত কণা ও গ্যাস শরীরে হরমোনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
দূষণ কমানো: কাঠ পোড়ানো থেকে বিরত থাকুন, সম্ভব হলে ধোঁয়াবিহীন জ্বালানি ব্যবহার করুন।
১নং চেচরি রামপুর ইউনিয়নের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ধোঁয়ায় ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারে না তারা। গলাব্যথা হয়, নাক-মুখ বন্ধ হয়ে আসে। তাদের দাবি, দ্রুত চুল্লিগুলো বন্ধ করা দরকার।
স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়া সর্বক্ষণ আশেপাশে ছড়িয়ে থাকে এবং ধোঁয়ার ঝাঁঝালো এক ধরনের গন্ধ নাকে লাগতেই নিঃশ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় মুরুব্বিরা বলেন, প্রথমদিকে জানতাম না যে এই ধোঁয়ায় বা এই চুল্লিতে পরিবেশের ক্ষতি হয়। কিন্তু এখন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমি চাই এই চুল্লি দ্রুতই বন্ধ হোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক জানান, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুল্লি বসিয়ে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের অভিযানে মাঝেমধ্যে তা বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু কিছুদিন পর আবারও চুল্লি বসিয়ে কাঠ পোড়াচ্ছে কয়লা ব্যবসায়ীরা। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ কেটে এসব চুল্লিতে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অবৈধ এসব চুল্লি উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতিটি চুল্লিতে প্রতি দফায় ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। ৮ থেকে ১০ দিন পোড়ানোর পর কয়লা হয়। কাঠালিয়া  উপজেলার ১নং চেচরি রামপুর ইউনিয়নে নদির পাড়ে অবৈধভাবে গাছের গুঁড়ি ও কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি হচ্ছে। অথচ এ কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া আশপাশের এলাকার মানুষ কাশিসহ নানা সমস্যায় ভুগছে।
গতকাল বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক
 মুঠোফোনে বলেন, গাছের কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এমনিতেই গাছ কাটা ও তা জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উপরন্তু, কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই কয়লা তৈরির কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ঝালকাঠি জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কাঠালিয়া উপজেলার ১ চেচরি রামপুর  ইউনিয়নের নদীর পাড়ে  অবস্থিত। নদীর পাড়ের জায়গাজুড়ে কয়লা তৈরির কারখানা। চারদিকে উঠতি আমন ফসলের মাঠ ও বসতবাড়ি।
স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম  কয়লা তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন। অনেক  মাস ধরে এখানে গাছের কাট দিয়ে কয়লা তৈরি হচ্ছে। কারখানায় রয়েছে অনেক টি চুলা। বিভিন্ন জায়গা থেকে  শ্রমিক নিয়ে এসে কাজ করা হচ্ছে। নদীর পাড়ের জমিতে মাটি ভরাট করে এ কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।
গাছ কাটা ও তা জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উপরন্তু, কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইট দিয়ে চুল্লি বানিয়ে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। চুল্লিতে গাছের কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। চুল্লির চারদিকে রাখা গাছের গুঁড়ি  শুকনা কাঠ-লাকড়ি। মোট অনেকটি  চুল্লির মধ্যে চারটি  চুল্লিতে আগুন জ্বলছে। কালো ধোঁয়ায় চারদিক ছেয়ে গেছে। চারপাশে বিভিন্ন আকারের গাছের গুঁড়ি রাখা হয়েছে। প্রতিটি চুল্লিতে ১৫০ মণ কাঠ ফেলে আগুন দেওয়া হচ্ছে। এক পাশে চুল্লির মুখ খোলা। সেদিক দিয়ে গাছের গুঁড়ি, লাকড়ি দেওয়া হয়। খোলা মুখে আগুন দিয়ে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কারখানার মালিকেরা বলেন, এক মণ খড়ি পুড়িয়ে পাঁচ-ছয় কেজি কয়লা পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত মণ কে  মণ কয়লা বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি চুল্লিতে প্রতি দফায় ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। ৮ থেকে ১০ দিন পোড়ানোর পর চুলা থেকে কয়লা বের হয়। পোড়ানো কয়লা ঠান্ডা করে ব্যবসার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রেতাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রতি মণ লাকড়ি ১৩০ টাকায় কিনে প্রতি মণ কয়লা ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন।
কারখানার মালিক রবিউল ইসলাম  বলেন, তাঁদের কারখানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নেই। তাঁরা মাত্র তিন মাস আগে কাজ শুরু করেছেন। পরিবেশের ছাড়পত্র ও প্রশাসনের অনুমতির জন্য আবেদন করবেন। আরো বলেন আমি   হাইকোর্টে রিড করেছি এবিষয়ে।
গ্রামের বাসিন্দা  বলেন, চারপাশে বাড়িঘর আর ফসলি জমি। এর মধ্যে কীভাবে এ রকম একটা কারখানা হয়? প্রশাসন এগুলো দেখভাল করছে না। সারাক্ষণ কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ধোঁয়ার কারণে বয়স্ক আর শিশুরা সব সময় কাশছে। তরুণ-যুবকদেরও একই অবস্থা। এভাবে মানুষ থাকে কীভাবে?
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, ধান কাটা লাগবে। এর মধ্যে কয়লা তৈরির কারখানার কালো ধোঁয়ায় গাছ চিটচিটে হয়ে গেছে। গাছের পাতা হাত দিয়ে ঘষা দিলে হাত কালো হয়ে যায়। এ অবস্থায় ফলন ঠিকমতো পাবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
 জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক   বলেন, কয়লা কারখানার চুল্লি পর্যাপ্ত উঁচু না হলে কালো ধোঁয়ায় উঠতি আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, কয়লা কারখানার চুল্লির কারণে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
কাঁঠালিয়া  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  বলেন, কাঠ দিয়ে কয়লা তৈরির বিষয়টি শুনেছেন। ওই সব কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
২০২৬ @ দৈনিক সত্য প্রকাশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।