
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
দেশের বাজারে বর্তমানে ২৮টি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে এলপিজি বিক্রির সাথে যুক্ত থাকলেও, সাম্প্রতিক সংকটের মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫টি কোম্পানি বাজারে গ্যাস সরবরাহ করছে। এর মধ্যে ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, ইউনিগ্যাস এবং ফ্রেশ এলপিজি অন্যতম।
বাজারে খুচরা ব্যাবসায়ীরা বলেন, বাজারে এখন গ্যাস নেই বললেই চলে। যে দু-একটি কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, আমাদেরই কিনতে হচ্ছে ১৫৫০ টাকায়, আর বিক্রি করতে হচ্ছে ১৬০০ টাকায়। কিন্তু এখানেও বিপদ আছে। অনেক ক্রেতা অতিরিক্ত দামে কিনে ভোক্তা অধিকার দপ্তরে অভিযোগ করেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের জরিমানা করেন। অথচ এখানে আমাদের কোনো দোষ নেই, কারণ কেনাই বেশি দামে।

গ্যাস সংকটের এই সময়ে বাজারে ইলেকট্রিক বা বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত রান্নার কাজ সেরে নেওয়া যায়। বিক্রেতারাও নিশ্চিত করেছেন যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি বহুগুণ বেড়েছে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত মুনাফাকারী খুচরা বিক্রেতারা রসিদ (মেমো) চাইলে সিলিন্ডার নেই বলে সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানান, যা সিন্ডিকেটের কারসাজির ইঙ্গিত দেয়।
ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেশজুড়ে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করছে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও অনেক ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা তা অমান্য করে অধিক মূল্যে বিক্রি করছে, যা রোধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিকট অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভোক্তাদের সচেতনতা এবং নিয়মিত এই তদারকি সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।