
নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আধার আমাদের পার্বত্য অঞ্চল শুধু রূপেই নয়, পুষ্টির ভাণ্ডারেও অনন্য। বর্তমানে সমতলের মানুষের কাছে পাহাড়ি সবজি হয়ে উঠেছে এক অন্যতম আকর্ষণ। রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত উপায়ে জুম চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত এই সবজিগুলো একদিকে যেমন সুস্বাদু, অন্যদিকে শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পার্বত্য জেলাগুলোতে ঋতুভেদে নানা ধরনের সবজি উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু সবজি হলো: বাঁশ কোড়ল : পাহাড়িদের অন্যতম প্রিয় খাবার। এটি মূলত কচি বাঁশের ডগা, যা পুষ্টিগুণে অনন্য। মারফা: অনেকটা শসার মতো দেখতে এই ফলটি পাহাড়ে প্রচুর জন্মে। এটি কাঁচা বা রান্না করে দুইভাবেই খাওয়া যায়। পাহাড়ি মিষ্টি কুমড়া ও বেগুন : আকার এবং স্বাদে এগুলো সমতলের সবজির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ও মিষ্টি হয়।
সাবারাং : এটি এক ধরনের সুগন্ধি লতা জাতীয় শাক, যা তরকারিতে বিশেষ ঘ্রাণ যোগ করে। কাঁচকলা ও জুম আলু: কোনো রকম কৃত্রিম হরমোন ছাড়াই এগুলো প্রাকৃতিকভাবে বড় হয়। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে পাহাড়ি সবজির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো: জৈব উপায়ে চাষ : জুম চাষে সাধারণত রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের ব্যবহার হয় না বললেই চলে। পাহাড়ের প্রাকৃতিকভাবে উর্বর মাটিতেই এই সবজিগুলো বেড়ে ওঠে। ভিন্নধর্মী স্বাদ : পাহাড়ি মাটির গুণাগুণ এবং শীতল আবহাওয়ার কারণে এই সবজিগুলোর স্বাদ ও ঘ্রাণ থাকে অটুট। দীর্ঘস্থায়ী সতেজতা: সমতলের হাইব্রিড সবজির তুলনায় পাহাড়ি সবজি দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকে।
বর্তমানে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এই সবজিগুলো এখন রাজধানীর বড় বড় সুপার শপ ও কাঁচাবাজারে জায়গা করে নিচ্ছে। পর্যটকরা ফেরার পথে ঝুড়ি ভর্তি করে এসব টাটকা সবজি নিয়ে আসছেন। সঠিক সংরক্ষণ ও দ্রুত পরিবহনের ব্যবস্থা করা গেলে পাহাড়ি সবজি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।ডাক্তারদের মতে, পাহাড়ি সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ভিটামিন থাকে যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় বিষমুক্ত পাহাড়ি সবজি রাখা একটি চমৎকার সিদ্ধান্ত হতে পারে।