বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল ৪ টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের কাজীপুর মোড় এলাকার মেসার্স পার্ক ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা আসলাম হোসেন ও চাঁন মিয়া এসব কথা বলেন।
ফিলিং স্টেশনটি ঘুরে দেখা যায়, পাম্পে প্রায় ৩ থেকে ৪ শত গ্রাহক লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের চাহিদামতো তেল দেওয়া হচ্ছে না। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ৭-৮ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ডিপো থেকে তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। ফলে গ্রাহকের চাহিদা বেশি থাকলেও মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
কথা হয় পাম্পের ব্যবস্থাপক নূরে আলমের সঙ্গে। তিনি দৈনিক সত্য প্রকাশ কে বলেন, আমরা স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ডিপো থেকে তেল পেতাম ১৩ থেকে ১৪ হাজার লিটার। এখন পাচ্ছি সাত হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার লিটার। অথচ গ্রাহকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। তাই আনলিমিটেড তেল না দিয়ে সবাইকে কম কম করে দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যমুনা সেতু পশ্চিম নলকা এলাকার আব্দুল আজিজ ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী বলেন, আমরা তো ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না। যতটুকু পেয়েছি, তা অনেক কম। সবাইকে আনলিমিটেড হিসেবে দিলে দু-এক ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাবে। তাই দু-তিনশ করে দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ জেলার সভাপতি আকবর আলী মিয়া দৈনিক সত্য প্রকাশ কে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন জ্বালানি বিপণন কোম্পানি-পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ কম তেল ডিলারদের সরবরাহ করছে। এতে সিরাজগঞ্জ জেলায় ২৭টি পাম্প থাকলেও গ্রাহকদের ‘অনিয়ন্ত্রিত চাহিদা’ মেটাতে না পারা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কিছু পাম্প মালিক তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।