
প্রিয়া চৌধুরী
রাজধানীর মুগদা এলাকায় মাছের ব্যবসার আড়ালে চোরাই রিকশা কেনাবেচার একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ওমর আলীর নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া রিকশাগুলো প্রথমে একটি সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো গোপনে ওমর আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কম দামে এসব রিকশা কিনে তা ভেঙে ফেলেন, রং পরিবর্তন করেন এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বদলে নতুন রূপ দেন—যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়।
পুনর্গঠিত এসব রিকশা পরে নরসিংদীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে চোরাই রিকশা বৈধ হিসেবে বাজারজাত হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রকৃত কার্যক্রম আড়াল করতে ওমর আলী দক্ষিণ মুগদা এলাকায় ফুটপাতে মাছ বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করেন। বাইরে থেকে তিনি একজন সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও, এর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ এই বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, চোরাই রিকশার এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে প্রকৃত মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে অপরাধচক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, ওমর আলী আটটি চোরাই অটোরিকশা কেনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেন, ‘রনি’ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এসব অটোরিকশা ক্রয় করেছেন। এ ছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুগদা এলাকার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ‘বাদল’ নামের এক ব্যক্তি ওমর আলীকে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।