1. admin@dainiksattoprokash.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম পারিবারিক কলহের জেরে ইমামের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী ক্যাশলেস ভেড়ামারা পূবালী ব্যাংকে পিএলসির উদ্যোগে ক্যাশলেস ক্যাপিন উদ্বোধন ভেড়ামারায় ২৮ বোতল মাদক সিরাপ ও মোটরসাইকেলসহ যুবক গ্রেপ্তার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালাল ৩২ মামলার আসামি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন মদনে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা উদ্বোধন করলেন লুৎফুজ্জামান বাবর টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি অকস্মাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রীপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেলেন রাশেদ খান ঝিনাইদহে শতাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অনুদানের চেক এবং গাছের চারা বিতরণ

মুগদা–মান্ডা–মানিকনগর মাদকের স্বর্গরাজ্য হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন ধরনের মাদক, থানায় অভিযোগের পাহাড়; প্রশ্নবিদ্ধ নজরদারি

প্রিয়া চৌধুরী, নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৩ ০০ বার পড়া হয়েছে

 

 

প্রিয়া চৌধুরী

 

প্রথম পর্ব,

রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় প্রকাশ্য মাদক বেচাকেনা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানার আশপাশসহ একাধিক ‘হটস্পট’-এ দিনের পর দিন ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা চললেও কার্যকর অভিযান চোখে পড়ছে না। এতে পুলিশের নজরদারি ও দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন উঠেছে। হটস্পট চিহ্নিত, তবু কেন নীরবতা?
স্থানীয় সূত্র জানায়, মানিকনগর বালুর মাঠে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় দেলোয়ার ওরফে বুদ্দা, লতা, খাস, মিলন, বৃষ্টি, মিন্টু, সাকিল, রাজু, সবুজ এবং রুবেল মাদক বিক্রি করে আসছে।

এদিকে মান্ডা প্রথম গলির মোশাররফ মিয়ার বাড়ির আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তাসলিমা বেগম, শরিফুন বেগম, নাসির, সজিব, মনা, বেলায়েত, টুলু, মাইকেল ও সহকারী সাগর। মানিকনগরের বসুন্ধরা এলাকায় মোজাম্মেল মিয়ার বাড়ির সামনে রিনা, তার স্বামী আবুল এবং সহকারী রুমা মাদক বিক্রি করে আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে মদিনাবাগের ময়লার দ্বীপ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ইতি, জুয়েল, শাহ আলম, আরনি, মুন্নি এবং আরও অনেকে। বিশ্বরোড সংলগ্ন এলাকা ও মানিকনগরের প্রেম গলিতে দেলা ও তার স্ত্রী মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মুগদা, মান্ডা ও মানিকনগরের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মাদকের আখড়া।
মান্ডা প্রথম গলিতে সমান্তরালভাবে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার বেচাকেনা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কারবারিরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এই অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে।

মানিকনগর, আনন্দধারা, ব্রিজের গোড়ায়, লোদার স্পটসহ বিভিন্ন স্থানে ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য চলছে। একইভাবে ‘নিজুর স্পট’ নামে পরিচিত এলাকায়ও মাদক আখড়া সক্রিয় রয়েছে। লাখ লাখ টাকার মাদক বাণিজ্য
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন এসব এলাকায় লাখ লাখ টাকার মাদক বিক্রি হয়। মাদকের সহজলভ্যতায় তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে। অনেক উঠতি যুবক ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। প্রায় প্রতিরাতেই এসব আসরকে কেন্দ্র করে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আরও অভিযোগ উঠেছে, মাদক চক্র প্রতিদিন পুলিশ, কিছু প্রভাবশালী নেতা ও কথিত কিছু সাংবাদিককে মোটা অংকের টাকা দিয়ে থাকে। এর বিনিময়ে লোক দেখানো অভিযান পরিচালিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এক সিন্ডিকেট সদস্যের দাবি, “আমরা নিয়মিত টাকা দেই। দলের প্রোগ্রামেও কিশোর গ্যাং সরবরাহ করা হয়।”
সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মাদক কারবারিদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী বিক্রেতারা অবস্থান নেয়—এ তথ্য স্থানীয়দের কাছে এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। তবুও নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বা ধারাবাহিক অভিযানের দৃশ্যমান প্রমাণ নেই বলে অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন,
“প্রতিদিন একই মুখ, একই জায়গা। ক্রেতা আসে, নেয়, চলে যায়। পুলিশ মাঝে মাঝে দেখা যায়, কিন্তু এই জায়গাগুলোতে কোনো তৎপরতা নেই। আরেক বাসিন্দার দাবি, ছোটখাটো অভিযানে দু-একজন ধরা পড়লেও মূল হোতারা অধরা থেকে যায়। এতে সন্দেহ বাড়ছে—আসলে কি বড়দের ধরার সদিচ্ছা আছে? যুবসমাজ ঝুঁকিতে, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা
অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতায় কিশোর-যুবরা ঝুঁকিতে পড়ছে। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার চলাচল সীমিত করছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

পুলিশের বক্তব্য কী?

এ বিষয়ে মুগদা থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি (ফোন রিসিভ হয়নি/মন্তব্য পাওয়া যায়নি)। তবে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, “অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে”—কিন্তু কবে, কীভাবে এবং কার বিরুদ্ধে—সে বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। প্রশ্নগুলো থেকেই যায় চিহ্নিত হটস্পট জানা থাকা সত্ত্বেও কেন ধারাবাহিক অভিযান নেই?

কেন বারবার ছোট মাছ ধরা পড়ে, বড়রা অধরাই থাকে?
নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন দৃশ্যমান ফল নেই? এলাকাবাসী দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত, ধারাবাহিক অভিযান ও ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা পুলিশ সদর দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
২০২৬ @ দৈনিক সত্য প্রকাশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।