মুরাদনগরে স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণের ৮ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসামি,আতঙ্কে পরিবার
মোঃ হানিফ মিয়া, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
৬৬
০০ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামপুর এলাকায় স্কুল থেকে ফেরার পথে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম (২৩) এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সকালে হারপাকনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যায় ওই ছাত্রী। স্কুল ছুটির পর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে মটকিরচর ঈদগাঁ এলাকায় পৌঁছালে একই গ্রামের বাসিন্দা হাকিম মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা এক সিএনজি চালক তাকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, পরে তাকে হোমনা উপজেলার কুটুমবাড়ি সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। বিকেলে গুরুতর অসুস্থ ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পুনরায় স্কুলের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে বাড়িতে ফিরে ভিকটিম তার মায়ের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা ২৪ এপ্রিল মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
ভিকটিমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী নেই। মেয়েটা স্কুলে গিয়ে ইজ্জত হারিয়ে আসলো। আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর আমরা ভয়ে ঘরে থাকতে পারছি না। আমরা দ্রুত বিচার চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা উল্টো ভিকটিমের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। এমনকি মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে, গ্রামবাসীর অভিযোগ—ঘটনার এতদিন পরও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। এতে এলাকার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন বলেন, ভিকটিমকে মারধরের বিষয়টি তার জানা নেই, তবে হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি বাদীকে থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছেন। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, “আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হুমকির বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।