
বিপ্লব হোসেন (ফারুক),
গাজীপুর কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতায় মৌচাক ফরেস্ট জমিদারের নিয়মে চলছে , এখানকার বনভূমি বৃক্ষ শূন্য হয়ে আজ বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিটে কর্মরত নায়েবগণের প্রজা সনদে নিত্য দিনে তৈরি হচ্ছে জনবসতি। বিটে নিয়োজিত শেখ আকিজুল ইসলাম ও ফারুক সিরাজের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী ভুমি খেকো সিন্ডিকেট ।কতিপয় দালালদের মাধ্যমে বনের জায়গায় ঘর বাড়ি দোকান, রাস্তা কলকারখানা নির্মাণের কাজ দিয়ে থাকেন। এতে অন্যান্য স্টাফগন অসহায়। বিট অফিসার একা একা মোটরসাইকেল নিয়ে দালালদের সাথে বসে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। পাঁচই আগস্ট এর পর এ যাবৎ ২৫০০ আড়াই হাজারের বেশি ঘর, ১০০০ এর বেশি দোকান, এক ডজন মার্কেট, নতুন নতুন রাস্তা ও কলকারখানা নির্মাণ হয়েছে। যারা টাকা কম দিয়েছিল তাদেরকে উচ্ছেদে অভিযানের ভয় দেখিয়ে টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। বর্তমানে ফরেস্ট গার্ড ফারুক এবং আকিজ তাহারা এই তল্লাটের একচ্ছত্র অধিপতি, ফরেস্ট গার্ড ফারুকের স্থানীয় বাড়ি মৌচাক ফরেস্ট বিট সংলগ্ন সফিপুর হওয়ার সুবাদে এলাকার প্রভাবশালী দলীয় নেতৃবৃন্দের পরিচয়ে আজ তাহার স্বেচ্ছাচারিতা বলগাহীন ঘোড়ার মতো, এমনিতে ফারুকের মুখ থেকে ফুটে ওঠে স্বয়ং বিট কর্মকর্তাও যেন তার-ই অধিনস্ত কর্মচারী, রেঞ্জার সাহেব যেন তাহাকে ছাড়া কিছুই বুঝেন না। শেখ আকিজুল ইসলাম শেখ পরিবারের আত্মীয় সুবাদে এর আগে চন্দ্রা বিটে দীর্ঘদিন দখল বাণিজ্য চালিয়েছিল। এরপর শ্রীপুর রেঞ্জে বনের মাটি পাচার করে ঘর বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে তাকে ময়মনসিং বদলি করা হয়েছিল, কিন্তু এক বছরের মধ্যেই পুনরায় ঢাকা বদলি হয়ে মৌচাক বিটে পোস্টিং নেন। সিরাজ মালি প্রায় ১৮ বছর ধরে এই এলাকায় চাকরি করছেন। দুই বছরের বেশি কোন কর্মস্থলে থাকার বিধান না থাকলেও সাড়ে ৩ বছর যাবত মৌচাক বিটে আছেন। এর আগে ৩ বছর মৌচাক নার্সারিতে এবং তার আগে মৌচাক বিটে, ক্যাম্পে ও চন্দ্রা বিট মিলিয়ে দেড় যুগ ধরে জমিদারি করছেন।
অবশ্যই এর কারণটা বেশ জটিল বলেই বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে উঠে আসছে। সিরাজ মালির বোন নাসিমা বেগম বর্তমানে আগারগাঁও বন ভবনে পিওন পোস্টে কর্মরত আছেন, ছোট বোন নাসিমা যেন বড় ভাই সিরাজ মালীর মুন্ডে জমিদারি মুকুট পরিয়ে দিয়েছে, এরই সুবাদে চন্দ্রা রেঞ্জের যাবতীয় তদবির বাণিজ্য সিরাজ মালিই করে থাকেন, সিরাজ মালির বাড়ি নোয়াখালী হওয়ায় সুবাদে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আশীর্বাদ ছিল, এমন ভাগ্য লক্ষীর কল্যাণে ভাই বোন মিলে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। আর এমন বাণিজ্য ধরে রাখতে কালিয়াকৈর রেঞ্জের মৌচাক ফরেস্ট বিটই যেন মসনদীয়া কুঞ্জবালার মধুর হাড়ি। মধুর আস্বাদনে উচ্চ পর্যায়ে তদবির করে ঘুরে ফিরে একই এলাকায় চাকরির সুবাদে ভূমিদস্যুদের নিয়ে একচ্ছত্র অধিপত্য বিস্তার করছে। সিরাজের দৌরাত্ম্যের কারণে আগের বিট অফিসার শহিদুল ইসলাম চাকুরী থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়েছেন। গার্ড সালাউদ্দিনকে মারপিট করে সিলেটে বদলি করে দিয়েছেন। বর্তমান বিট অফিসার সাইফুল ইসলাম ও সিরাজ মালির আক্রমণের শিকার হয়েছেন। রিপোর্ট দিয়ে তাকে সরিয়ে দিলেও কিছুদিন পর পুনরায় মৌচাক চলে এসেছেন। আকিজ ফারুক সিরাজ সিন্ডিকেটের কাছে যেন বনের কর্তা ব্যক্তিরা জিম্মি। যে কারণে তাদেরকে কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে বদলির সাহস পায় না।
এরা সিএফ সিসিএফের নাম ভাঙ্গিয়ে বনের জায়গায় গড়ে ওঠা কোম্পানিগুলো থেকে মাসোয়ারা নিয়ে থাকে।এরই মাঝে শুরু হয়েছে অঞ্চলটিতে সেটেলমেন্ট জরিপ, দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই বিটের অধীন বাগিয়া মৌজার প্রায় ৯৬ একর বনভূমির এক ইঞ্চি ভূমি যেন আজ দখলদারিত্বের খেলায় বন বিভাগের অবশিষ্ট নেই। তাইতো দখলদারিত্ব ধরে রাখতে প্রজা পত্তন নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে উল্লেখিত বিট অফিসে শুরু হয়েছে আলো আঁধারের ত্রিভুজ খেলা।
একদিকে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাগণ, অন্য দিকে বিটে কর্মরত ভুমি খেকো সিন্ডিকেট আর এক দিকে দালালদের দৌড়াত্বে ঘুম হারাম। রাতের ঘুম হারাম করে ফেলেছেন বনে বসবাসরত দখলদারদের স্বার্থ রক্ষার্থে ,সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন বন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব কার? কে হাল ধরবেন বন বিভাগের সম্পত্তির স্বার্থ রক্ষায় ? বৃক্ষরাজি হাতছানি দিয়ে চিৎকার করছে আমাকে বাঁচাও ।