
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারী এবং কয়েদিদের জন্য বরাদ্দকৃত রেশন সামগ্রী নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে কারাগারটিতে অবস্থানরত কর্মকর্তা কর্মচারী এবং কয়েদিদের পুষ্টি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে । প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা নিয়ে। অন্যদিকে, নীতিমালা মেনে রেশন বিক্রি করার বিধান রয়েছে বলছেন কারা কর্তৃপক্ষ।
বস্তাভর্তি পন্য বোঝাই একটি ব্যটারী চালিত অটোভ্যান কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার পর আটক করে স্থানীয়রা । এ সময় ভ্যানে থাকা ৪০ বস্তা চাউল কারাগারের রেশন স্টোর থেকে কিনেছেন বলে দাবি করেন মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি। কারাগারটির পাশেই মোয়াজ বীজ ভান্ডার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।
মনিরের দাবি, গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাজিরুলের নিকট থেকে প্রতিমাসেই তিনি সহ অনেকেই খাদ্য পণ্য ক্রয় করেন। সরকারি সিলমোহর যুক্ত বস্তাভর্তি চাউল বাইরে বের করা নিষেধ তাই বস্তা ভেতর থেকেই পরিবর্তন করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
কারাগারের বন্দি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর পূর্ণ ব্যবহার কাগজে কলমে দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যপন্য প্রতি মাসে কারাগার থেকে বাইরে বের হয়ে যাচ্ছে। এমনটি চলতে থাকলে কারাগারটিতে অবস্থানরত কয়েদিদের পুষ্টি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সচেতন মহল। সেই সাথে কারা কর্তৃপক্ষের রেশনিং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বিধান মেনে রেশন বিক্রি করা যেতে পারে, তবে প্যাকেট বা বস্তা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।” বলছেন, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার-৪ এর ডেপুটি জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
২০১৭ সালের কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোহম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কারাগারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের রেশন বাইরে বিক্রি করার নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়। প্রয়োজনোতিরিক্ত রেশন পণ্য বাইরে খোলা বাজারে বিক্রি করতে হলে ম্যাচ ম্যানেজার স্বাক্ষরিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার কর্তৃক প্রতি স্বাক্ষরিত চালান এবং বাউন্ডারি ওয়াল ফটোকে দায়িত্বরত আর পি কর্তৃক যাচাই বাছাই পূর্বক প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের পর পন্য সামগ্রী কারা ফটোকের বাইরের নেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানছেন না কারা কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র ডেপুটি জেল সুপার এর স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্রর মাধ্যমে কারা ফটকের বাইরে হস্তান্তর হচ্ছে রেশন পণ্য।
এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।