
প্রিয়া চৌধুরী
রাজধানীর মুগদা ও মান্ডা এলাকায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা দক্ষিণের মান্ডা ৭১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল শফিকুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীর মাধ্যমে তার বড় বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়েরের পরিকল্পনা করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শফিকুল তার স্ত্রী চাঁদনীকে জোরপূর্বক মুগদা থানায় পাঠিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করতে চাপ দেন। তবে থানায় গিয়ে চাঁদনীর বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় চাঁদনী কথিতভাবে স্বীকার করেন যে, তার স্বামী তাকে চাপ দিয়ে মিথ্যা মামলা করতে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক পাওয়ার সেল টিমের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে শফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কথিতভাবে জানান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহেল তাকে মারধর করে এবং তার স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করতে চাপ দেন। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায়ের পরিকল্পনা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ফারুকের দাবি, সোহেল তার দোকানে গিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে বলেন, তার শ্যালিকা গণধর্ষণের অভিযোগ দিয়েছে। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তবে ফারুক আইনের আশ্রয় নেন।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন নারীকে নিয়ে শফিকুলকে দিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহেল শফিকুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে মুগদা থানার পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।