
মোঃ ওয়ালিদ মিয়া (অনিক)
গাছ আমাদের পরম বন্ধু এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের রক্ষাকবচ। এটি বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও সতেজ রাখে। এছাড়াও বৃক্ষ বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
একটি দেশের মোট আয়তনের অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৭ শতাংশ। তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানানো হয়।
সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজ (১৭/০৭/২০২৬ খ্রি.) সময়ের বাতিঘর যুব সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় এলাকার বিভিন্ন স্থানে ১০টি তাল, ২টি অর্জুন, ২টি নিম এবং ১টি লেবু গাছের চারা রোপণ করা হয়।
প্রশান্ত কুমার দে সময়ের বাতিঘর যুব সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা, এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ রেখে বলেন, আপনারা চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করুন এবং ভবিষ্যতে এর সুফল ভোগ করুন।
গবেষণায় দেখা গেছে, বজ্রপাতে মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যুহার কমাতে তালগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে, নিমগাছের ঔষধি গুণের কারণে এটি বিভিন্ন চর্মরোগ, বিশেষ করে খোস-পাঁচড়ার প্রকোপ কমাতে সহায়ক। অর্জুন গাছ হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হাঁপানি এবং হজমের ক্ষেত্রে ভেষজ গুণের জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে, ভিটামিন সি-এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস হলো লেবু।
সবার প্রতি অনুরোধ রেখে ‘সময়ের বাতিঘর যুব সংগঠন’ এর সভাপতি খন্দকার এজাজ হোসেন বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুমে আপনারাও নিজ নিজ বাড়ির আশেপাশে, রাস্তার ধারে কিংবা যেকোনো খালি জায়গায় ফলদ, কাষ্ঠল, ভেষজ ও পশুখাদ্য-উপযোগীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করুন। আসুন, সবাই মিলে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পৃথিবীকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলি।
এছাড়াও সময়ের বাতিঘর যুব সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন মোহাম্মদ গোলাম রাব্বি (সহ-সভাপতি), শাকিল খন্দকার (সাংগঠনিক সম্পাদক), মোঃ চঞ্চল (কার্যনির্বাহী সদস্য)৷