1. admin@dainiksattoprokash.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম পারিবারিক কলহের জেরে ইমামের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী ক্যাশলেস ভেড়ামারা পূবালী ব্যাংকে পিএলসির উদ্যোগে ক্যাশলেস ক্যাপিন উদ্বোধন ভেড়ামারায় ২৮ বোতল মাদক সিরাপ ও মোটরসাইকেলসহ যুবক গ্রেপ্তার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালাল ৩২ মামলার আসামি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন মদনে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা উদ্বোধন করলেন লুৎফুজ্জামান বাবর টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি অকস্মাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রীপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেলেন রাশেদ খান ঝিনাইদহে শতাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অনুদানের চেক এবং গাছের চারা বিতরণ

আমার ছেলেটাকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে’, কাঁদছেন মা

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯০ ০০ বার পড়া হয়েছে

খুলনা জেলা প্রতিনিধি

 

শিশুর এমন নির্মমতার খবর কেবল একটি ঘটনাই নয়— এটি সমাজে বেড়ে ওঠা অমানবিকতার ভয়াবহ ইঙ্গিত।

 

ঘটনাটি ঘটেছে খুলনার কয়রা উপজেলার খিরোল মহিলা মাদ্রাসায়, মঙ্গলবার মাগরিবের আজানের আগে। আহত ওমর খিরোল গ্রামের মিজানুর রহমান সানার ছেলে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ওমর তার সমবয়সী কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে মাদ্রাসার ছাদে খেলছিল। হঠাৎ একই গ্রামের ইয়ার মোহাম্মদ গাজীর ছেলে আল মাসুদ ওমরকে ধাক্কা দিয়ে তিনতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়।

 

শিশুটির আর্তচিৎকারে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার জানান, ‘শিশুটির শরীরে একাধিক স্থানে ভাঙন হয়েছে। অবস্থা সংকটজনক বলে দ্রুত খুলনায় পাঠানো হয়েছে। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্ম কর্তকর্তা (ওসি) মোতালেব হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে যে সহিংসতা ও অমানবিকতা বাড়ছে, সেটি সমাজের গভীর অসুস্থতার প্রতিফলন।

 

পরিবারে সহিংস আচরণ, টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক কনটেন্ট, অবহেলিত অভিভাবকত্ব— এসব মিলেই শিশুদের মনে জন্ম দিচ্ছে হিংসা, ভয় ও সংবেদনহীনতা।

মনোবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, একটি শিশু যখন দেখে তার চারপাশে গালি, মারামারি, অপমান ও ক্ষোভ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে, তখন সেও তা অনুকরণ করে। আজকের অমানবিক শিশুটি কাল বড় হয়ে হতে পারে সমাজের ভয়ঙ্কর রূপ।

 

শিক্ষাবিদদের মতে, শিশুর মনকে কেবল বই নয়, প্রয়োজন ভালোবাসা, সহানুভূতি ও মানবিক আচরণের শিক্ষা। পরিবার, স্কুল-মাদ্রাসা ও সমাজ— সবার দায়িত্ব শিশুর মধ্যে ‘মানুষ হওয়া’র বীজ বপন করা। খুলনার কয়রায় ৯ বছরের ওমর আজ হাসপাতালে শুয়ে কাঁদছে— কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে, কে জাগাবে সেই শিশুর ভেতরের মানুষটিকে, যে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দিল?

 

এই ঘটনা আমাদের সমাজের মানবিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। এখনই যদি পরিবার, শিক্ষক ও সমাজ একসাথে না এগিয়ে আসে, তবে আগামী প্রজন্ম হারাবে অনুভূতির ক্ষমতা— আর তাতে হারিয়ে যাবে আমাদের ভবিষ্যৎও।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
২০২৬ @ দৈনিক সত্য প্রকাশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।