
মোঃ রোমান হোসেন
আশুলিয়ার চারাবাগ কুমকুমারি এলাকায় পাওয়া অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশের রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ—উত্তর বিভাগ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নিহত নারী আসলে ছিলেন হত্যাকারীরই স্ত্রী।
ডিবি সূত্র জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি (২০২৫) আশুলিয়ার চারাবাগ কুমকুমারি এলাকার একটি নির্জন স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা (নং-৬৮, তারিখ: ২৮/০১/২০২৫, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়।
এরপর প্রায় সাড়ে নয় মাস তদন্তের পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও থানার পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি (উত্তর), ঢাকা জেলা।
অভিযানে ওই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা বিদ্যুৎ মণ্ডল (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার তালোরা বাইগুনি গ্রামে। বর্তমানে তিনি খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিদ্যুৎ মণ্ডল স্বীকার করেছেন—লাশটি তার স্ত্রী নারগিস আক্তার (২৭)-এর। তিনি ছিলেন বিদ্যুতের তৃতীয় স্ত্রী। তদন্তে জানা যায়, বিদ্যুৎ ও তার বোন জামাই শাকিলুর রহমান মিলে যৌথভাবে নারগিসকে হত্যা করেন। ঘটনার পর তারা লাশ ফেলে পালিয়ে যান।
শাকিলুর বর্তমানে পলাতক, তাকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান (পিপিএম) জানান, “দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।”
গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানার হত্যা মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।