
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বসিরের বিরুদ্ধে একাধিক কৃষকের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ চেচরি গ্রামের কৃষক মো. শাজাহান অভিযোগ করেন, “সুবিধাবঞ্চিত কৃষকদের সরকারি সার–বীজ বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে জাহিদুল ইসলাম বশির আমার কাছে টাকা নেন। কিন্তু পরে আর কোনো সুবিধাই দেননি। বরং টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকি–ধামকি দেন।”
ভুক্তভোগী আরও বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার আশায় অনেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি জমা দেন। কিন্তু সুবিধা তো দূরের কথা, টাকা ফেরত চাইতেই চরম অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বশির নানাভাবে তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন—মিডিয়ায় যেন আর কোনো তথ্য প্রকাশ না করা হয়। এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী কৃষক জানান,
“ভোটার আইডি ও ছবি নিয়ে তিন হাজার টাকা নিয়েছিল জাহিদুল ইসলাম বসির। বলেছিল সার–বীজ দেবে। কিন্তু পরে কিছুই পাইনি। টাকা ফেরত চাইলে তিনি চরম অস্বীকৃতি জানান এবং আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়–ভীতি দেখান।”
আরেক কৃষক একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন,
“আমার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেয় সার দেবে বলে। পরে জানতে পারি আমার নামে সার বরাদ্দ হলেও সেটি আমি পাইনি। পরে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি—বসির নাকি সেই সার অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা এবং তদবির–নির্ভর প্রভাবের কারণে অভিযোগ ওঠার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে কৃষি সেবার ওপর মানুষের আস্থা কমছে বলে তারা মত দেন।
স্থানীয় কৃষক–মহলে ক্ষোভের আগুন এখন তীব্র। তাদের দাবি, দুর্নীতিবাজ বশিরের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।